সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনা-খার্গ দ্বীপ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসে ট্রাম্পের হুমকি সংসদে হাসনাত ভুল স্বীকারের পর যা বললেন সালাহউদ্দিন সম্প্রচার চুক্তি বাতিল, বাংলাদেশে দেখা যাবে না আইপিএল যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবীতে দুর্গাপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ আটোয়ারীতে মাসিক সমন্বয় সভা ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে মাদক দ্বন্দ্বে তরুণ খুন, গ্রেপ্তার ৮ নতুন ছবির ঘোষণা সালমানের, মুক্তি ঈদে ইরান কেন হরমুজের ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চাচ্ছে, শুধুই কি রাজস্ব নাকি অন্য কিছু ঢাবির চারুকলা অনুষদে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু ইরানের পক্ষে শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া গালিবাফ কে?

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও রিজার্ভ ও আমদানি নিয়ে উদ্বেগ নেই: গভর্নর

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ২৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অভিঘাত, আগামী কয়েক মাস পর্যন্ত সামাল দিতে পারবে বাংলাদেশ। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লেও বাড়তি আমদানি ব্যয় মেটাতে দেশের পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

রোববার (২৯ মার্চ) জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নবনিযুক্ত গভর্নর দেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান নিয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে মুদ্রানীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে সুদের হার কমানো এ মুহূর্তে ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ হবে এবং স্বল্পমেয়াদি প্রবৃদ্ধির চেয়ে মূল্যের স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। 

গভর্নর আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও দেন, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের অংশ। সভায় ডেপুটি গভর্নররাও একই ধরনের মতামত তুলে ধরেন। ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট।

তিনি বলেন, এছাড়া জুনের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে, এবং ব্যালান্স অব পেমেন্টে চাপ কমাতে আরও ২ বিলিয়ন ডলারের একটি ক্রেডিট লাইন নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

গভর্নর জানান, সরকার প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সরাসরি অনুদানের মাধ্যমে কম দামে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বিভিন্ন দেশ সফর করছেন।

এছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে বলে জানান গভর্নর। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতিতে বেশকিছু ঝুঁকি বা মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ সৃষ্টিরও আশঙ্কা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা। 

ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত তেল) দাম যখন ৬২-৬৫ ডলারে ছিল, তখন জ্বালানি আমদানিতে বছরে ব্যয় হতো ১০.৫ বিলিয়ন ডলার। এখন দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, আমদানি ব্যয়ও সে তুলনায় বাড়বে। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা পেলে এই বাড়তি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

গভর্নর মোস্তাকুর জানান, দীর্ঘমেয়াদি জিটুজি (সরকারের সঙ্গে সরকারের) চুক্তির আওতায়, বাংলাদেশ যেসব ফুয়েল (জ্বালানি) আমদানি করে, সেগুলো চুক্তিতে থাকা দরেই আমদানি হয়। এসব অপরিহার্য আমদানি যাতে অব্যাহত থাকে, সেজন্য সরকারের প্রচেষ্টা চলছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন জানান, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বিপুল সংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে পারে। এতে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি এসব বেকার শ্রমিকদের অন্ন, বস্ত্র সংস্থান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির চাপে পড়বে দেশ। তিনি বলেন, আইএমএফ জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করতে সরকারকে শর্ত দিলে, বাংলাদেশকে তা মানতে হবে। তখন মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে যেতে পারে।

কঠিন শর্ত হলেও আইএমএফ এর ঋণ না নিলে বিশ্বব্যাংক, এডিবি থেকে ঋণ পাওয়া যাবে না বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা। ডেপুটি গভর্নর জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক দর দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে থাকলে সরকারের ওপর বাড়তি ভর্তুকির চাপ সৃষ্টি হবে, যা বিদ্যমান রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতিতে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।

ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদ জানান, প্রতিবছর বর্ষাকালে আমদানির চাপ কম থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বিল্ড আপ করে। এবছরও বর্ষাকালে আমদানির চাপ কম থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা রিজার্ভ ও এক্সচেঞ্জ রেট (বিনিময় হার) স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অগ্রাধিকার তুলে ধরে গভর্নর মোস্তাকুর জানান, ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টরকে (আর্থিক খাত) রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা প্রথম অগ্রাধিকার। দ্বিতীয় অগ্রাধিকারে রয়েছে স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি (পাচার সম্পদ পুনরুদ্ধার) করা, এজন্য দু-একদিন পর পর মিটিং হচ্ছে। বেশিরভাগ ব্যাংক এনডিএ (নন-ডিজক্লোজার এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর করেছে, বাকিরাও করবে।

জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ বা তার বেশি না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ৬০০ কোটি টাকার স্টার্ট আপ ফান্ড থেকে আগামী জুনে ঋণ বিতরণ শুরু হবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার জন্য রুরাল (গ্রামীণ) অঞ্চলে চাহিদা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে বা তার আগে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো চালু করতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরকে ডিসেন্ট্রালাইজড করার চেষ্টা করছি। বিশেষত কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কৃষি প্রযুক্তিতে বাড়তি ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এসএমইখাতের জন্য একটি সাবসিডাইজ ফান্ড গঠনের কথা ভাবছি। রিজার্ভ সেফ জোনে আছে এবং এক্সচেঞ্জ রেটে বড় ধরণের ডেপ্রিসিয়েশন (অবনমন) চাচ্ছি না।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা থেকে সরে আসার সুযোগ নেই জানিয়ে গভর্নর বলেন, এর কার্যক্রম গতিশীল করা হবে। দ্রুতই এমডি ও চেয়ারম্যান নিয়োগ পাবে, এবং নতুন এই ব্যাংকে কোন রাজনৈতিক প্রভাব থাকুক—তা আমি চাই না। গত বুধবার দেশের বৃহৎ শিল্প গ্রুপগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সভা করে তাদের সমস্যাগুলো জেনেছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, যেসব সমস্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো সমাধান করা হবে।

আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দেশের আর্থিক লেনেদেনে একটিমাত্র কিউআর কোড থাকবে জানিয়ে গভর্নর বলেছেন, এই বাংলা কিউআর কোড ১ জুলাই থেকে ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হবে। এর মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়বে, যা রাজস্ব আহরণ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

 

কিউএনবি/আয়শা/৩০ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৪:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit