শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন

দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম, উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা কাতারে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ২২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী। ইতোমধ্যে দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে জ্বালানি তেলের দাম।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো শিগগিরই উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ উৎপাদিত জ্বালানি মজুত করার জায়গা দ্রুত কমে আসছে।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এক লাফে ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলারে পৌঁছেছে। এটি ২০২৩ সালের শরতের পর সর্বোচ্চ।

কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল কাবি ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে। যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ চললে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের চাপে পড়বে এবং অনেক দেশে জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

এদিকে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি তাদের এলএনজি উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে সরবরাহ চুক্তিতে ফোর্স মেজিউর ধারা কার্যকর করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান সংঘাতের কারণে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো তেল রফতানি করতে না পারলে তাদের উৎপাদিত তেল মজুত করে রাখতে হবে। কিন্তু মজুতের জায়গা শেষ হয়ে গেলে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধ করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এমনকি যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব কিছু বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল পরিবহন করতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জলপথে হুমকি যত দীর্ঘ হবে তেলের দাম তত বাড়তে থাকবে।

জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু পরিবহন ব্যয়ই বাড়াবে না, খাদ্যসহ আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়িয়ে দিতে পারে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে যেখানে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার পথে ছিল, সেখানে নতুন করে এই পরিস্থিতি আবার চাপ তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বিভিন্ন দেশ তাদের জরুরি তেলের মজুদ বাজারে ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোর্স: রয়টার্স

কিউএনবি/অনিমা/০৭ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৩:৩২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit