সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন

নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
  • ৩০ Time View

ডেস্কনিউজঃ পুলিশ বাহিনীতে কর্মকর্তা ও সদস্যরা বর্তমানে তীব্র যানবাহন সংকট, লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা এবং আবাসন সমস্যাসহ নানাবিধ কর্মচাপের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন হচ্ছেন। আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়, যার ফলে কোনো এলাকায় উত্তেজিত জনতার ক্ষোভের মুখে পড়ার ঘটনাও ঘটে। পুলিশে সাইবার অপরাধের মতো জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে মারাত্মক। এমন অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নের জন্য অতিজরুরি বিষয়গুলোর দিকে নজর না দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন একটি বিলাসবহুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বড় ধরনের সহিংসতায় বাহিনীর শত শত যানবাহন ও থানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকায় থানা পুলিশের নিয়মিত টহল ব্যাহত হচ্ছে এবং অপরাধের বা জরুরি খবরের পরেও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। দুই লাখ তের হাজার পুলিশ সদস্যের ৯০ শতাংশেরই নিজস্ব আবাসন সুবিধা নেই। অপর্যাপ্ত ব্যারাক বা আবাসিক পরিবেশে না থাকার কারণে জীবনযাত্রার মান ও স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পুলিশের সামগ্রিক কার্যক্রমে গতি আনতে এসব কাঠামোগত, লজিস্টিক ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলো দূর করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র যানবাহন সংকট, লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা, আবাসনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তৈরি না করেই পোশাক পরিবর্তন সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের চেয়ে তাদের পেশাদারিত্ব, মানবিক আচরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা অনেক বেশি জরুরি। কেবল বাহ্যিক পোশাক বা রঙের পরিবর্তন আনলেই জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী তৈরি হয় না; এর জন্য প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন, সঠিক প্রশিক্ষণ এবং জবাবদিহিতা।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি কি কেবল পুলিশের সংস্কারের অংশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে আর্থিক অপচয়, দুর্নীতি অথবা অন্য কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্য। সবার আগে পরিবর্তন আনতে হবে বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের মানসিকতায়। শুধু পোশাক বদলালেই পুলিশের আচরণে পরিবর্তন আসবে না। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে একের পর এক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ইমেজ সংকটে পড়ে বাহিনীটি। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুলিশে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক আব্দুল কাইয়ুম ইনকিলাবকে বলেন, পুলিশের পোশাক একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পোশাকে একদিকে কমফোর্ট এবং অপরদিকে ডিগনিটির বিষয়টি জড়িত। সাধারণ পুলিশ সদস্যরা এ পোশাক পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে দাবি তুলেছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সরকার পুলিশের এ দাবি পূরণ করেছে। পুলিশে অনেক সমস্যা রয়েছে। সবগুলো তো একসঙ্গে সমাধান করা যাবে না। আবাসন সমস্যাও রয়েছে পুলিশে। যেমন প্রথমত ব্যারাক, দ্বিতীয়ত ফ্যামিলি কোয়ার্টার। সব সদস্যের বাসা ভাড়া দিয়ে থাকার মতো সাধ্য নেই। তবে গুরুত্বসহকারে এক এক করে সমস্যার সমাধান করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ইনকিলাবকে বলেন, পুলিশে যেন চলছে যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একবার পরিবর্তনের পর আবারও বদলে ফেলা হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্ম। ইউনূস সরকারের সময় বিপুল অর্থব্যয়ে কেনা পোশাক পরিবর্তন করছে সরকার। বৃহস্পতিবার ইউনিফর্মের পরিবর্তন এনে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন সিদ্ধান্তে মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ সদস্যদের ইউনিফর্ম আগের মতো হালকা অলিভ রঙের শার্ট এবং মেট্রোপলিটন ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের (সদর দপ্তরসহ) ইউনিফর্ম গাঢ় নীল রঙের শার্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই খাকি রঙের ট্রাউজার বা প্যান্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাঠপর্যায়ের বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ইনকিলাবকে বলেন, পদোন্নতি ও বদলি-সংক্রান্ত জটিলতা, আবাসন সংকট, যানবাহনের অভাব—এসব সমস্যা পুলিশবাহিনীকে দুর্বল করে তুলছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মানসিক চাপ ও অবসাদ। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় অনেক পুলিশ সদস্যই হতাশায় ডুবে যাচ্ছেন, এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। কর্মঘণ্টা কমানো, পদোন্নতি সহজ করা, আবাসন ও যানবাহনের ব্যবস্থা করা খুবই জরুরি। পুলিশ সদস্যদের জীবনমান উন্নত করতে হলে তাদের জন্য নিরাপদ কর্ম পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এতে শুধু পুলিশবাহিনী শক্তিশালী হবে না, সমাজের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।

রাজারবাগ ব্যারাকে থাকা পুলিশের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, তাদের জন্য রয়েছে সীমিত পরিসরের আবাসন, সেটাও স্বাস্থ্যকর নয়। থাকার ব্যবস্থার চেয়ে থাকতে হচ্ছে বেশি। ডিএমপির প্রটেকশন অ্যান্ড প্রটোকল বিভাগের সদস্যদের আবাসনের জন্য ভবন বরাদ্দ দেওয়া আছে দুটি, যেখানে থাকতে পারেন ১ হাজার ৫১ জন। যদিও সেখানে বসবাস করতে হচ্ছে প্রটেকশন বিভাগের ২ হাজার ১২২ জনকে। এর বাইরে পুলিশ সদর দপ্তরের কিছু সদস্যও সেখানে বসবাস করছেন। ব্যারাক ভবন দুটিতে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি পুলিশ সদস্য। আবার স্থানসংকুলান না হওয়ায় সিঁড়ির নিচে বিছানা পেতে থাকতে হয়। সেখানেও জায়গা না পেলে অনেককে ভবনের বাইরে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙিয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে। এ সব সমস্যার দিকে দৃষ্টি না দিয়ে পোশাক পরিবর্তন করাটা রহস্যজনক।

পুলিশ-সংশ্লিষ্টরা জানায়, ৫ আগস্টের আগে ও পরে পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা এবং অগ্নিসংযোগের অনেক ঘটনা ঘটেছে। থানা ও ফাঁড়িসহ একাধিক স্থানে হামলা চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র লুটের পাশাপাশি ৪৪ পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। এখনো লুট হওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। ওই সময় ৫২৬টি সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ৫৩৩টি গাড়ি ভাঙচুর ও অকেজো করে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৫৯টি যানবাহন সম্পূর্ণ ভস্মীভূত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

কিউএনবি/বিপুল/২০.০৬.২০২৬/রাত ১০.৪২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit