স্পোর্টস ডেস্ক :পাকিস্তান দলের একাদশ নির্বাচন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির। তাঁর অভিযোগ, মূলত পেস বোলিং অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফকে চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সঠিকভাবে ব্যবহারই করা হচ্ছে না। তিন ম্যাচ খেলে ফেললেও ফাহিমকে এখন পর্যন্ত একবারও বোলিং করানো হয়নি, ব্যাট হাতেও মিলছে না পর্যাপ্ত সুযোগ—এ অবস্থায় তাকে একাদশে রাখার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন আমির।
কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর জিও নিউজের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘হারনা মানা হে’-তে কথা বলেন তিনি। ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান, হারে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে। ম্যাচের পর প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদ ও প্রধান কোচ মাইক হেসনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আমির।
টি-টোয়েন্টিতে ফাহিমের পরিসংখ্যান যথেষ্ট সমৃদ্ধ। পাকিস্তানের হয়ে ৭৩ টি-টোয়েন্টিতে ৬১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে তার উইকেট সংখ্যা ২৫৯। চারবার পাঁচ উইকেট ও পাঁচবার চার উইকেট নেওয়ার কীর্তিও আছে তার ঝুলিতে। অথচ চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একটি বলও হাতে তুলে দেওয়া হয়নি তাকে।
ব্যাট হাতে অবশ্য প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দলের ত্রাতা ছিলেন ফাহিম। আট নম্বরে নেমে ১১ বলে ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে, তিন ছক্কা ও দুই চারে পাকিস্তানকে জেতান এবং ম্যাচসেরাও হন। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে তার ভূমিকা সীমিত। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সাত নম্বরে নেমে ২ বলে ১ রান করেন, আর ভারতের বিপক্ষে আবার আট নম্বরে নেমে ১৪ বলে করেন ১০ রান।
এ প্রসঙ্গে আমির বলেন, ‘আপনারা ফাহিমকে এখন ফিল্ডিং অলরাউন্ডার বানিয়ে ফেলেছেন। তাকে না দেওয়া হচ্ছে বোলিং, না সে পাচ্ছে পর্যাপ্ত ব্যাটিংয়ের সুযোগ, তাহলে সে কেন খেলছে? যদি বোলিংই না করানো হয়, তাহলে অন্য ব্যাটার খেলালেই তো হয়।’
পাকিস্তানের প্রধান পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আমির। ভারতের বিপক্ষে দুই ওভারে ৩১ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন আফ্রিদি। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪২ রান দিয়ে একটি উইকেট এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২৮ রান দিয়ে একটি শিকার ধরেন তিনি।
আমিরের মতে, অনেক দিন ধরেই প্রত্যাশিত প্রভাব রাখতে পারছেন না আফ্রিদি। তাঁর জায়গায় বাঁহাতি পেসার সালমান মির্জাকে সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি। বিশ্বকাপ অভিষেকে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছিলেন সালমান। তবু পরের দুই ম্যাচে একাদশে জায়গা পাননি।
আমির বলেন, ‘সালমান ছন্দে আছে, সুযোগ পেলেই ভালো করে। শাহিন ভালো বোলার, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু দিন শেষে পারফরম্যান্সই আসল। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছাড়া আর কোন আইসিসি আসরে সে প্রভাববিস্তারি পারফরম্যান্স করেছে, আমাকে দেখান।’
পাকিস্তানের পরবর্তী ম্যাচ বুধবার, নামিবিয়ার বিপক্ষে। সুপার এইটে উঠতে এই ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ভেস্তে গেলেও পরবর্তী পর্বে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে দলটির।
কিউএনবি/অনিমা/১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ১০:০০