আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বন্য কবুতরকে খাবার খাওয়ানোর অপরাধে এক নারীকে জরিমানা করেছে সিঙ্গাপুরের আদালত। দণ্ডিত আসামির নাম শানমুগামনাথন শামলা। ৭১ বছর বয়সী এ নারী একাধিক বার বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করায় তাকে এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
অবসরজীবন যাপন করা শামলা সিঙ্গাপুরের সেন্ট্রাল অঞ্চলের তোয়া পায়োহ এলাকায় থাকেন। তবে তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বলে জানিয়েছে দ্য ইকোনমিকস টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া। শামলা বন্যপ্রাণী আইনের অধীনে চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং আদালত তার আরো পাঁচটি একই ধরনের ঘটনা বিবেচনায় নিয়েছে। এটিই প্রথমবার নয় যে, ওই নারী তার এমন অভ্যাসের জন্য আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের মে মাসে একই অপরাধ এবং একটি পাখি ধরার অভিযানে বাধা দেওয়ার জন্য তাকে ১ হাজার ২০০ সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। সে সময় তিনি আদালতকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তিনি আর এ কাজের পুনরাবৃত্তি করবেন না। তবে মাত্র এক মাস পরেই তিনি তার পুরনো অভ্যাসে ফিরে যান।
আদালতে উপস্থাপিত প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে ওই নারী অন্তত ৯ বার কবুতরকে শস্যদানা এবং পাউরুটি খাইয়েছিলেন। আদালতে প্রদর্শিত ভিডিও ফুটেজে দেশটির তোয়া পায়োহ এলাকায় তার বাসভবনের কাছে তাকে একঝাঁক কবুতরের মাঝে দেখা যায়। আদালতকে জানানো হয় যে, তিনি তার নির্বাচনি এলাকার সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করে অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তার মাত্র তিন দিন পরেই তাকে আবার পাখিদের খাবার খাওয়াতে দেখা যায়।
প্রসিকিউশন তার এ আচরণকে আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং যুক্তি দিয়েছে যে, একটি কার্যকর শাস্তি প্রয়োজন। ওই নারী আদালতকে জানান, তিনি বেকার এবং তার কোনো চিকিৎসা বীমাও নেই। শামলা জরিমানা কমানোর অনুরোধ করেন এবং এর পরিবর্তে সমাজসেবামূলক কাজের প্রস্তাব দেন। তবে বিচারক ৩ হাজার ২০০ ডলার জরিমানা করার পর তিনি সঙ্গেই পুরো অর্থ পরিশোধ করতে রাজি হন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, একই অপরাধ বারবার করার কারণে প্রতিটি অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারত।
সূত্র: সামা টিভি।
কিউএনবি/আয়শা/০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:১৪