বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হামলার জবাব দৃঢ় ও তাৎক্ষণিক হবে: ইরানি সেনাবাহিনী

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাব হবে দৃঢ়, দ্রুত ও তাৎক্ষণিক হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ‘শত্রু যদি আবারও বোকামি করে ভুল হিসাব করে, তবে তার জবাব দেওয়া হবে তাৎক্ষণিকভাবে, কোনো বিলম্ব ছাড়াই।’ খবর আনাদোলুর। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য হামলার হুমকি এবং পারস্য উপসাগরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বহর মোতায়েনের পর এমন হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করল ইরানের সেনাবাহিনী। আকরামিনিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি একটি স্পষ্ট ধারা অনুসরণ করে আসছে, যার মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ।’ তিনি একে হাইব্রিড যুদ্ধের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

গত বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সক্ষমতা সম্পর্কে ভুল মূল্যায়ন করেছিল। বিশ্ব দেখেছে, জায়নবাদী শাসনের সামরিক হামলার জবাবে আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি, বরং জাতীয় ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে এবং আমেরিকানরা তাদের জবাব পেয়েছে।’

আকরামিনিয়া জোর দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো হামলা হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে এবং বাস্তব সময়েই জবাব দেবে। ১২ দিনের যুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে, শত্রুকে সময় দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’‘গানবোট’ কূটনীতি ও আঞ্চলিক প্রস্তুতি ইরানি সেনা মুখপাত্র অভিযোগ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ১৮ ও ১৯ শতকের মতো ‘গানবোট কূটনীতি’ অনুসরণ করছে এবং চাপ প্রয়োগ করে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। তারা শূন্য মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ওপর বিধিনিষেধ চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়ে আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের জবাব যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কাম্য নাও হতে পারে। এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আধা-ভারী অস্ত্র, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পুরো অঞ্চলই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্লায় থাকবে।’

ইরানের প্রস্তুতির মাত্রা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘গত বছরের যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিমানবাহিনীতে নতুন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী সবই এখন উচ্চ মাত্রার প্রস্তুতিতে রয়েছে।’

পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আধুনিক যুদ্ধে যুদ্ধজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সামরিক শক্তি কেবল নৌবহরেই সীমাবদ্ধ নয়। এই এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার কাছে ঝুঁকিপূর্ণ।’

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৩০ জানুয়ারী ২০২৬,/দুপুর ১২:২৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit