নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি : তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করলেও নীরবে ভেঙে দিচ্ছে সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তি সম্পর্কের গভীরতা। শুধু শহর নয় গ্রামেও স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির ফলে একসময়কার যৌথ পরিবারভিত্তিক সমাজব্যবস্থা আজ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
একসময় নরসিংদীর গ্রাম ও শহরের পরিবারগুলোতে এক ছাদের নিচে দাদা-দাদি, চাচা-কাকা, বাবা-মা ও সন্তানদের মিলিত বসবাস ছিল স্বাভাবিক চিত্র। সন্ধ্যা নামলেই উঠানজুড়ে আড্ডা, গল্প আর শিশুদের খেলাধুলার কোলাহল শোনা যেত। এখন একই ঘরে থেকেও পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত থাকেন নিজ নিজ মোবাইল ফোনে।
বিশেষ করে শিশুরা মাঠের খেলাধুলা ছেড়ে মোবাইল গেম ও ভিডিওতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে তাদের শারীরিক সক্ষমতা কমছে, পাশাপাশি সামাজিক আচরণ ও সহমর্মিতার মতো মানবিক গুণাবলিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নরসিংদী সদর উপজেলার গৃহিণী রাশিদা বেগম বলেন, আগে সবাই একসাথে বসে খেতাম, গল্প করতাম। এখন একই ঘরে থেকেও কথা বলার সময় পাওয়া যায় না।
স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, যৌথ পরিবার শিশুদের মানুষ করত। এখন মাঠের খেলা ছেড়ে মোবাইলে আসক্ত হওয়ায় তারা একা থাকতে শিখছে। তরুণ সমাজের মধ্যেও বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে ভার্চুয়াল যোগাযোগের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। ফলে বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা এমনকি দাম্পত্য সম্পর্কেও তৈরি হচ্ছে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি। ষাটোর্ধ প্রবীণ শামসুদ্দিন বলেন, যৌথ পরিবারই ছিল আমাদের শক্তি। সুখ-দুঃখ সবাই মিলে ভাগ করতাম। এখন পরিবার ছোট, সম্পর্কও দুর্বল।
আবার অনেকেই মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি নিজে সমস্যা নয় বরং এর অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারই পরিবার ও সামাজিক মূল্যবোধ দুর্বল করে দিচ্ছে। পরিবারে প্রযুক্তি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, শিশুদের খেলাধুলায় উৎসাহ এবং নির্দিষ্ট সময় প্রযুক্তিমুক্ত পারিবারিক পরিবেশ তৈরি করা গেলে এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
কিউএনবি/আয়শা/০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:১৫