সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন

মহাকাশ মিশনে নাকানিচুবানি, ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে ভারত!

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৫৫ Time View

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক :  ‍ এক বছরে দুইবার বিপর্যয়। ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এ যেন এক অভূতপূর্ব অন্ধকার অধ্যায়। যে পিএসএলভি রকেটকে দশকের পর দশক ধরে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো ‘ওয়ার্কিং হর্স’ বা কাজের ঘোড়া বলে গর্ব করে এসেছে, সেই আস্থার স্তম্ভেই এখন ফাটল স্পষ্ট। শুক্রবার শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ১৫টি কৃত্রিম উপগ্রহ নিয়ে পাড়ি দিলেও গন্তব্যে পৌঁছনো হলো না পিএসএলভি-সি৬২-র। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মিশনটি ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের মহাকাশ মুকুটে বড়সড় আঘাত লাগল। গত বছরের মে মাসেও ঠিক একইভাবে ব্যর্থ হয়েছিল এই রকেট। এক বছরের মধ্যে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেবল প্রযুক্তিবিদদের নয় ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদেরও কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। 

ভারতের অনেকেই এখন প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন, এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা কি নেহাতই যান্ত্রিক গোলযোগ নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে কোনও পরিকল্পিত অন্তর্ঘাত?

রহস্যের দানা বাঁধার কারণটি নেহাতই সামান্য নয়। এবারের মিশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ডিআরডিও-র তৈরি সামরিক উপগ্রহ ‘অন্বেষা’। চীন ও পাকিস্তানের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাতে সক্ষম এই উপগ্রহটি কক্ষপথে স্থাপিত হলে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হতো বলেই দাবি দিল্লির কর্তাদের। ভারতীয়দের দাবি, মহাকাশের অতল গহ্বরে ‘অন্বেষা’ হারিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে সীমান্ত ওপারের শত্রু শিবির। গত বছর পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাজস্থানে ডিআরডিও-র সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতারির ঘটনা এই সন্দেহকে আরও উসকে দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান মহাকাশ শক্তিকে স্তিমিত করতে বিদেশি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই বা অন্য কোনও প্রতিকূল শক্তি কি তবে সংস্থার অন্দরেই জাল বুনেছে? কারণ, যে রকেটের সাফল্যের হার ৯০ শতাংশের বেশি, সেখানে মাত্র কয়েকমাসের ব্যবধানে একই প্রযুক্তিগত ভুল হওয়াটা বিজ্ঞানীদের কাছেও বেশ অস্বাভাবিক।

ব্যর্থতার পর ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন, অভিযানের তৃতীয় ধাপে রকেটটির গতিপথ বিচ্যুত হয় এবং প্রয়োজনীয় উচ্চতা অর্জন করতে না পারায় মিশনটি সফল হয়নি। তবে অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে তিনি এটিকে যান্ত্রিক ত্রুটি হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন। যদিও বিশেষজ্ঞদের অনেকেই ইসরোর অন্দরের অন্তর্কলহ এবং বিজ্ঞানীদের মধ্যে রেষারেষির পুরনো অভিযোগগুলো নিয়ে ফের সরব হয়েছেন। 

চন্দ্রযান-২ এর ব্যর্থতা এবং পূর্বসূরিদের ঘিরে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের বিতর্কিত বয়ানও এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেকে আবার মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ইসরোর বাণিজ্যিক সুনাম নষ্ট করতে এবং ভারতকে বিদেশি কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর ব্যবসা থেকে ছিটকে দিতেই পরিকল্পিতভাবে এই বিপর্যয় ঘটানো হতে পারে। কারণ এই ব্যর্থতার ফলে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় ভারতের মহাকাশ বাণিজ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত কোনও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ না দিলেও পিএসএলভি-র এই বিপর্যয়ের কারণ খুঁজে বের করতে এখন মরিয়া বিজ্ঞানীরা। 

কিউএনবি/অনিমা/১৬ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:০৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit