ডেস্ক নিউজ : পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বাদ পড়ার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের উচিত আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করা। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ২০ দলের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিশ্চিত করে যে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি পাকিস্তান জাতীয় দল এই মেগা ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে পিসিবিকে গুরুতর আর্থিক ও ক্রীড়াগত ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, আইসিসির অন্দরমহলে পাকিস্তানের অবস্থানকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত না ভেবে বরং চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৯৯৮-৯৯ সালে পিসিবি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা খালিদ মাহমুদ বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আইসিসির ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ভারত। তিনি উল্লেখ করেন, আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ একজন ভারতীয় এবং সংস্থাটির ভেতরে আরও কয়েকজন ভারতীয় কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী পদে রয়েছেন।
বাংলাদেশের উদ্বেগকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে খেলোয়াড়রা নিজেদের অনিরাপদ মনে করে এবং নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকে, সেখানে তারা খেলতে যাবে এটা কীভাবে আশা করা যায়?২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে মাহমুদ স্মরণ করিয়ে দেন, ওই ঘটনার পর ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশ পাকিস্তান সফর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
তিনি প্রশ্ন করেন, তখন কি পাকিস্তান সেই সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল? অথবা আইসিসি কি পাকিস্তানের এই অবস্থানকে সমর্থন করেছিল যে তারা সফরকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে? মাহমুদ বলেন, ‘আইসিসি পাকিস্তানে দল পাঠাতে দেশগুলোকে রাজি করাতে এক ফোঁটাও চেষ্টা করেনি।’ তার মতে, এই নজিরগুলোই প্রমাণ করে যে ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা উদ্বেগ আইসিসির গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, এই ইস্যুতে পাকিস্তানের উচিত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো। তার ভাষায়, অন্যান্য দেশ ভারতের দাস বা অধীনস্থ নয়, তবে তারা আর্থিক স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়। মাহমুদ মনে করেন, এ বিষয়ে আইসিসির একটি জরুরি সভা ডাকা উচিত ছিল এবং সেই ফোরামে পাকিস্তানের বাংলাদেশের বিষয়টি জোরালোভাবে তোলা দরকার ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের ঘোর বিরোধিতা করেন মাহমুদ।
কিউএনবি/আয়শা/২৭ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৮:০০