সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

‘ভাণ্ডারি মুলা’ নিয়ে ফিরছেন লাখো ভক্ত

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবারের ওরসের প্রধান এখন আকর্ষণ ‘ভাণ্ডারি মুলা’। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লাখ লাখ ভক্তরা বড় সাইজের এই মুলা নিয়ে বাড়ি যান। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ওরস উপলক্ষ্যে মুলা নিয়ে বসছেন বিক্রেতারা। সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) মাইজভাণ্ডারীর ১২০তম ওরস শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার।  

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে তিন দিনব্যাপী এই ওরস। ওরস ঘিরে দরবারের আশেপাশে দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মুলা ও বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে বসেছে লোকজ মেলা। ভক্তরা দরবারে জেয়ারত শেষে বিশেষ সবজি ‘ভাণ্ডারি মুলা’ নিয়ে ফিরে যান। এটাকে বিশেষ নিয়ত করে খাওয়ারও জনশ্রুতি আছে। 
জানা যায়, হালদা নদীর চরে উৎপাদিত এই মুলা স্থানীয় কৃষকেরা ওরসের বিক্রির উদ্দেশে অপেক্ষা করেন। তাই প্রতিবছর ওরসে কৃষকরা এসব ‘ভাণ্ডারি মুলা’ বিক্রি করে লাভের আশায় থাকেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, নাজিরহাট ঝংকার মোড় থেকে দরবার পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়কের ধারে মুলার পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা, বিক্রিও চলছে। একেকটি মূলা দুই-তিন হাত পর্যন্ত লম্বা এবং ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের। দরবারে মাংস-মুলা তবররুক হিসেবে প্রচলন থাকায় আছে। তাই নিয়ত করে ‘ভাণ্ডারি মুলা’ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান ভক্তরা।
দরবারে আসা আরাফাত হোসেন বলেন, প্রতি বছর ওরসে এলে মুলা নিয়েই বাড়িতে যাই। এসব মুলা খেতে অনেক সুস্বাদু এবং দামেও ভালো। এক নিয়তে মানত করে এই মুলা রান্না করে খেলে মনের আশা পুরণ হয়। কার মোড়ে মুলা বিক্রেতা আবুল বশর বলেন, সারা বছরই আশায় থাকি ১০ মাঘ ওরসের মেলার জন্য। কারণ মেলায় ভালো দামে বিক্রি হয় বলে মুলায় লাভও পাওয়া যায় দারুণ। এ সময় ক্রেতাও থাকে আশানুরূপ।
জানা গেছে, মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন। রকমারি খাবার, তৈজসপত্র ও বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন। মেলায় পোশাক, খেলনা, প্রসাধনী সামগ্রীসহ গৃহস্থের প্রয়োজনীয় বাঁশ, বেত, মাটির ও লোহার তৈরি জিনিসপত্র পাওয়া যায়।
মাইজভান্ডার আহমদিয়া মঞ্জিলের তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষক মো. শামীমুল হাসান বলেন, হালদা চরের মুলা বিশেষ তবাররুক হিসেবে আশেক-ভক্তরা বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যান। দরবারের মাংস-মুলার তরকারি বিশেষ তবররুক হিসেবেও খান। ফলে কৃষকেরা সারাবছর অপেক্ষায় থাকেন ‘মাঘের মেলা’ কখন আসে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হন, তেমনি আশেক-ভক্তরাও কিনে নিয়ে তাদের মনোবাসনা পূরণ করেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৪ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:৩৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

January 2025
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit