স্পোর্টস ডেস্ক : নরওয়ের ছোট্ট শহর বোডো। আর্টিক সার্কেলের কাছের এই শহরের জনসংখ্যা মোটে ৫৫ হাজার। সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ায় শীতল বাতাস সর্বক্ষণ। কিন্তু উইয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের উত্তেজনা যেন এখানে আগুনের মতো ছড়িয়ে দিয়েছে। বোডো শহরের হৃদয় আস্পমিরা স্টেডিয়ান স্টেডিয়াম। যার ধারণক্ষমতা মাত্র ৮ হাজার।
এমন অবস্থায় যেখানে নিজ শহরের দর্শকদের জায়গা পাওয়া দুষ্কর, সেখানে প্রিয় দলের খেলা দেখতে ইংল্যান্ড থেকে ছুটে গিয়েছিলেন ম্যানসিটির ৩৭৪ জন সমর্থকরা। তারা এসেছিলেন নিজেদের প্রিয় দলের খেলা দেখতে—সুন্দর ফুটবল, উত্তেজনা, জয়ের আশা নিয়েই। কিন্তু মাঠে যা হলো, তা তাদের প্রত্যাশার বাইরে।
বোডো/গ্লিমটের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানে হেরে গেল ম্যানচেস্টার সিটি। তিন হার এবং তিন জয়ের যাত্রায় এটিই লিগে বোডোর প্রথম জয়। আস্পমিরা স্টেডিয়ান স্টেডিয়ামে সে রাতে জায়ান্ট স্কিনে ইংলিশ জায়ান্টদের নাম ছোট হয়ে গেল, কিন্তু সমর্থকদের ত্যাগ ও খেলোয়াড়দের উদারতা ফুটে উঠল এক নতুন গল্পে।
বার্নার্দো সিলভা, রুবেন দিয়াস, আর্লিং হলান্ড ও রদ্রি—ম্যানসিটির এই চারজন মিলে সেই গল্পকে আরও উজ্জ্বল করে তুললেন। তারা ঘোষণা করলেন, ৩৭৪ সমর্থকের ভ্রমণ ব্যয় মোট ৯,৩৫৭ পাউন্ড ফেরত দেওয়া হবে।
ইতিহাদ ক্লাবের খেলোয়াড়দের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের কাছে সমর্থকেরাই সবকিছু। ঘরে বা বাইরে—আমাদের জন্য বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করা তাদের ত্যাগ আমরা জানি এবং কখনো হালকাভাবে নিই না। তারা বিশ্বের সেরা সমর্থক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মাঠে কঠিন এক সন্ধ্যায় হিমশীতল আবহাওয়ায় সমর্থকদের এতদূর আসতে হয়েছে। বোডোতে যারা আমাদের সমর্থন দিয়েছেন, তাদের টিকিট খরচ বহন করা আমাদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম দায়িত্ব।
ম্যানসিটির সমর্থক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে যে সম্পর্ক, তা ফুটে উঠল কেভিন পারকারের কথায়। ম্যানসিটির এই সমর্থক বলেন, দলের জন্য পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যেতে প্রস্তুত ম্যানসিটির সমর্থকরা। গত রাতটা আর্টিক সার্কেলের মতোই কঠিন ছিল। বোডো সহজভাবে পৌঁছানো যায় না, আর শূন্যের নিচের তাপমাত্রা সমর্থকদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। তবে এই সম্পর্ক, এই সমর্থন—চিরকাল থাকবে।
কিউএনবি/অনিমা/২২ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৫:৩২