রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : রাজশাহীর বিসিক শিল্পাঞ্চলে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে টিসিবির বিপুল পরিমাণ চাল মজুদের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মেসার্স চৌধুরী ফুড ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেডের মালিক মোঃ ইব্রাহিম শাহ্ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।আজ সকালে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, তার গোডাউনে সরকারি লোগোযুক্ত প্রায় শতাধিক বস্তা টিসিবির চাল অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের সাথে কথা বললে তিনি প্রথমে বৈধ কাগজপত্র থাকার দাবি করলেও পরে চালের মালিকানা নিয়ে অসংলগ্ন কথা বলেন। ম্যানেজার জানান, এই চালগুলো তাদের নয় বরং অন্য কারো, তবে মালিকের সাথে কথা বললে বিস্তারিত জানা যাবে। পরবর্তীতে মেসার্স চৌধুরী ফুড ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেডের মালিক মৌলভী মোঃ ইব্রাহিম শাহ্ চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন যে, এই চাল কে বা কাহারা রেখেছে তা তার জানা নেই। তিনি দাবি করেন যে তারা কোনো চাল ক্রয় করেন না, শুধু সর্টিং করার জন্য কেউ চাল আনলে তারা তা করে দেন। একপর্যায়ে তিনি বাইরে আছেন ও ব্যস্ত আছেন বলে কথা বলা বন্ধ করে দেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নওগাঁর পোরশা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ ইব্রাহিম শাহ্ চৌধুরীর এই অপতৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রভাব। তার শ্যালক মো. মঞ্জুর মোরশেদ পোরশা উপজেলা আওয়ামী লীগের মনোনীত দুইবারের উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে সেই প্রভাব খাটিয়ে ইব্রাহিম চৌধুরী এলাকায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। এমনকি শ্যালকের নির্বাচনের সমস্ত খরচ বহন করে রাজনৈতিক দাপটে তাকে জিতিয়ে আনার ক্ষেত্রেও তার বড় ভূমিকা ছিল বলে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে।
মোঃ ইব্রাহিম শাহ্ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আরও দীর্ঘ। তার গোডাউনে ৩০০ টন চাল রাখার অনুমতি থাকলেও তিনি প্রায় তিনগুণ বেশি চাল অবৈধভাবে মজুদ করে রাখছেন, যা আইনত বড় ধরনের অপরাধ। ইতিপূর্বে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তাকে শেষবারের মতো সুযোগ দিয়ে সতর্কবার্তা দিলেও তিনি তা মানছেন না। এছাড়া পাট মন্ত্রণালয়ের কঠোর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করেই তিনি প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করে চলেছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দুদক, জেলা প্রশাসক ও ভোক্তা অধিদপ্তরের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে তার ব্যক্তিগত গোডাউনে খাদ্য অধিদপ্তরের বা টিসিবির কোনো বস্তা রাখা যাবে না। অথচ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ৩০ কেজির সরকারি চালের বস্তা মজুদ রেখে তিনি অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী এই চক্রের বিরুদ্ধে দুদক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
কিউএনবি/আয়শা/২০ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:৪৪