মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন

বহুল আলোচিত ‘বোর্ড অব পিস’ কী?

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজায় প্রস্তাবিত শান্তি পরিষদ তথা বোর্ড অব পিসে যোগ দিতে বিশ্বের ৬০টি দেশের প্রেসিডেন্ট অথবা প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাওয়া এই সংস্থার মাধ্যমে প্রথমে গাজায় এরপর বিশ্বের বাকি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

কিন্তু এই আলোচিত ও সমালোচিত বোর্ড অব পিস কি? দখলদার ইসরাইলের চালানো গণহত্যার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। তিনি চান জাতিসংঘের বাইরেও এমন একটি সংগঠন থাকুক যার মাধ্যমে তিনি বিশ্বে শান্তি ফেরাতে পারবেন।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণা করেন। এই সংস্থাটি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পায়। এর প্রাথমিক কাজ মূলত ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতি তদারকির।

ইউরোপের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বোর্ডটির আজীবন চেয়ারম্যান হবেন ট্রাম্প। শুরুতে এটি গাজা সংঘাত নিয়ে কাজ করবে, পরে অন্যান্য সংঘাতেও কাজ করবে। সদস্য দেশগুলোর মেয়াদ হবে তিন বছর। তবে বোর্ডের তহবিলে ১ বিলিয়ন ডলার দিলে স্থায়ী সদস্যপদ পাবে যেকোনো দেশ।

হোয়াইট হাউস এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে বলা হয়, ‘এটি শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির প্রতি গভীর অঙ্গীকার দেখানো অংশীদার দেশগুলোকে স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার একটি সুযোগ মাত্র।

মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, এই সংস্থার লক্ষ্য হলো ‘পুরো গাজা পুনর্গঠন করা’ এবং সংগৃহীত প্রায় প্রতিটি ডলারই সেই কাজে ব্যয় করা। সংস্থাটি ‘অতিরিক্ত বেতন ও বিশাল প্রশাসনিক খরচ’ ছাড়াই পরিচালিত হবে।

ট্রাম্প নির্বাহী বোর্ডে নিয়োগ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জামাতা জ্যারেড কুশনার, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের সিইও মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং মার্কিন উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েলকে।

বোর্ড অব পিস-এর ম্যান্ডেট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত অনুমোদন দিয়েছে। এটি কেবল গাজা সংঘাতের জন্য সীমাবদ্ধ। তবে এই সংস্থাটি নিয়ে বড় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ।

গাজার বাইরে বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়ে চিঠিতে চার্টার অন্তর্ভুক্ত থাকায় ইউরোপের কিছু দেশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এটি জাতিসংঘের কাজকে দুর্বল করতে পারে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, এটি একটি ‘ট্রাম্প ইউনাইটেড নেশনস’। জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতিকে উপেক্ষা করবে।

আরও তিনজন পশ্চিমা কূটনীতিক বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে জাতিসংঘকে দুর্বল করবে। আরও তিনজন কূটনীতিক ও এক ইসরাইলি সূত্র জানান, ট্রাম্প চান বোর্ড অব পিস ভবিষ্যতে গাজার বাইরে অন্যান্য সংঘাতও তদারকি করুক।

নথিতে বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য বাস্তববাদী বিচারবোধ, সাধারণ-বুদ্ধির সমাধান এবং সেই সব পদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠান থেকে সরে আসার সাহস প্রয়োজন, যেগুলো বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

জাতিসংঘকে ইঙ্গিত করে নথিতে আরও বলা হয়, আরও দ্রুত ও কার্যকর একটি আন্তর্জাতিক শান্তি-নির্মাণ সংস্থার প্রয়োজন রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, বোর্ডটি শিগগিরই বৈঠকে বসবে এবং এই বোর্ডটি হবে একেবারেই অনন্য। এমন কিছু আগে কখনো হয়নি!

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এক জ্যেষ্ঠ জাতিসংঘ কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যার নৈতিক ও আইনি সক্ষমতা রয়েছে বড়-ছোট সব দেশকে একত্র করার। 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক স্কাই নিউজকে বলেছেন, ‘এটি নিয়ে যদি আমরা প্রশ্ন তুলি, তবে আমরা খুবই অন্ধকার সময়ে ফিরে যাব। তবে প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস-কে জাতিসংঘের বিকল্প আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বানানোর আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত বিতর্কিত হবে। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়াসহ বহু দেশের বিরোধিতার মুখে পড়বে। এই দুই দেশেরই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থায় বড় স্বার্থ জড়িত। ছোট দেশগুলোরও আপত্তি থাকতে পারে। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করতে চাইবে না।

 

কিউএনবি/আয়শা/২০ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:১৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit