মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

বাকবিন্ডায় যুবককে ডাকাত আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, বিএনপি নেতাকে প্রধান আসামি করে মামলা

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩২ Time View

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে ডাকাত আখ্যা দিয়ে মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদকে (৪৫)।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা মামলাটি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে সড়কে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মিজান উপজেলার কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার ভুয়া পুলিশের বাড়ির মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং প্রজেক্ট ও মুরগির খামারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

নিহতের স্বজন ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাঁচ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১০ জানুয়ারি উপজেলার মনিনগর গ্রামে নিহত মিজানের শ্বশুর ও শ্যালকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় মিজানকে ক্ষোভের শিকার হতে হয়। শনিবার সন্ধ্যায় কাজ আছে বলে দুজন ব্যক্তি তাকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত পৌনে ১০টার দিকে বিএনপি নেতা মাসুদ নিহতের ভগ্নিপতি আবু তাহেরকে হুমকি দিয়ে বলেন, তোমার ভায়রা মিজানকে প্রতিবাদ করতে নিষেধ কর, না হলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলব।

ওই দিন কালিরহাট বাজারে মিজান তার মাছের প্রজেক্টের স্ট্যাম্প ও পাওনা ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরত চাইলে মাসুদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আলেম, যুবদল নেতা হাফিজ উদ্দিন (৩২), অন্তর, কাশেম, জোবায়েদ, মো. আসিফ ও মিরণসহ ১৫–২০ জন মিজানের মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারীরা মরদেহ সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে নিহতকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে বাজারে মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

নিহতের স্বজনেরা আরও জানান, তাড়াহুড়োর কারণে কয়েকজন জড়িত ব্যক্তির নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে আইনগত প্রক্রিয়ায় নাম যুক্ত করা হবে। অভিযোগ অস্বীকার করে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক ওরফে মাসুদর রহমান বলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। গণপিটুনিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সময় আমি আমার দোকানে ছিলাম।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, নিহতের স্ত্রী সিমা বাদী হয়ে সোমবার কবিরহাট থানায় এ মামলা দায়ের করে। যাহার মামলা নম্বর-১০। মামলায় সন্দেহভাজন ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১৫–২০ জনকে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিউএনবি/আয়শা/২০ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

January 2025
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit