মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের চেয়েও তাদের ক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে: জাতিসংঘ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গুতেরেস জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ বিশ্বের প্রধান প্রধান সংঘাত সমাধানে ব্যস্ত ঠিক, কিন্তু জাতিসংঘ তেমন কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারছে না। বড় শক্তিগুলোর যতটা শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে।

তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, ‘সেই বড় শক্তি কি সেই দ্বন্দ্বগুলোর বাস্তব ও স্থায়ী সমাধানের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, নাকি কেবল দ্রুত সমাধানের জন্য। দুটি জিনিসের মধ্যে একটি বড় পার্থক্য রয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন।

গুতেরেস আরও বলেন, তার সংস্থার ১৯৩ সদস্য দেশগুলো যে নাটকীয় সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে তা মোকাবেলা করার জন্য জাতিসংঘের সংস্কার প্রয়োজন। কিছু লোক বিশ্বাস করে যে, ‘আইনের ক্ষমতার পরিবর্তে ক্ষমতার আইন প্রতিষ্ঠা করা উচিত।’ জাতিসংঘ প্রধান বলেন।

গুতেরেস পরামর্শ দেন, ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য তৈরি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আর বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করে না এবং এই সংস্থা প্রায় অকার্যকর।’
 
পরিষদের স্থায়ী সদস্য – ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র – যে কোনো একটি বর্তমানে ভেটো প্রস্তাব দিতে পারে। রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ইউক্রেন এবং গাজায় যুদ্ধ বন্ধের বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করার জন্য এই ক্ষমতা ব্যবহার করেছে।
 
গুতেরেস দাবি করেন যে, ভেটো ব্যবহার করা হচ্ছে সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বার্থকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। এদিকে, গুতেরেস কাউন্সিলের গঠনে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘বৈধতা পুনরুদ্ধার, ‘সমগ্র বিশ্বের কথা শোনা এবং অগ্রহণযোগ্য বিষয় এড়াতে ভেটো ক্ষমতাকে সীমিত করার কথা বলা হয়।’
 
গুতেরেস – একজন সাবেক পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী।  ২০১৭ সালে জাতিসংঘের প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এই বছরের শেষের দিকে তিনি এই পদ ছেড়ে দেবেন। সাধারণ পরিষদে তার বার্ষিক ভাষণে, যা ঐতিহ্যগতভাবে সংস্থার অগ্রাধিকার চিহ্নিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়, তিনি সংঘাত, দায়মুক্তি, অসমতার বিশৃঙ্খলাপূর্ণ বিশ্ব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের নির্লজ্জ লঙ্ঘন কে বিশ্ব ব্যবস্থার মুখোমুখি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন।

মহাসচিব বলেন, জাতিসংঘের জন্য চলমান সংঘাতগুলোর মধ্যে একটি ছিল গাজা। 
যুদ্ধের বেশিরভাগ সময় ধরে জাতিসংঘকে এই অঞ্চলে সাহায্য বিতরণ করতে বাধা দেয়া হয়েছিল, কারণ ইসরাইল আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে এই অঞ্চলে সাহায্য আনতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। গাজায় জাতিসংঘকে ক্ষমতাহীন মনে করেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, কিন্তু সেটা স্পষ্ট করে বলা যাক।’

‘অনেক দিন ধরেই ইসরাইল বলে আসছিল যে মানবিক সাহায্য বিতরণ করা হচ্ছে না কারণ জাতিসংঘ তা করতে পারছে না। অবশ্যই, কিন্তু যখন ইসরাইল আমাদের গাজায় যেতে দেবে না, আমরাতো তখন গাজায় যেতে পারব না। সে কারণেই আমরা পারিনি। তারপর যুদ্ধবিরতি হয় এবং মানবিক সাহায্যের বিশাল প্রবাহ শুরু হয়।’
 
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু আমাদের শর্ত দেয়া হয়েছিল। এছাড়া কয়েকদিন আগে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গুতেরেস বলেছিলেন যে ১৯৪৫ সালের সমস্যা সমাধান করার প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের সমস্যার সমাধান করবে না, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা কাঠামোর কথা উল্লেখ করে বলেন। 

তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন-জোরপূর্বক নেতৃত্ব পরিবর্তন, ইরানে শাসক বাহিনী হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা এবং ডনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষিত লক্ষ্যসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব। এসব সমাধানে জাতিসংঘের কাঠামো পরিবর্তনের কথা বলেন গুতেরেস। 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

January 2025
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit