এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর : যশোরের চৌগাছা উপজেলার সলুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এবার জালিয়াতি করে সরকারি বেতন উত্তোলন, স্বজনপ্রীতি, প্রশ্ন ফাঁস, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের নিকট বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ সব অভিযোগের তদন্ত পূর্বক বিচার চেয়ে যশোর জেলা প্রশাসক, চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন সলুয়া গ্রামের মাহবুবুর রহমান। লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী মাহবুবুর রহমান বলেছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে নগদ অর্থ আত্মসাত জালিয়াতি করে সরকারি বেতন উত্তোলন, স্বজনপ্রীতি, প্রশ্ন ফাঁসসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের নিকট বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ফলে স্কুলটিতে শিক্ষার পরিবেশ নেই বললেই চলে।
প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান এ স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। পরে পতিত সরকার আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারী তিনি প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে এ পদে এমপিও ভূক্ত হন তিনি। প্রধান শিক্ষকের এরিয়া হিসেবে সমস্ত বকেয়া বেতন উত্তোলনও করেন তিনি। এদিকে প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান প্রভাব খাটিয়ে ২০২০ সালের জানুয়ারী থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত সহকারী প্রধান শিক্ষকের বেতন উত্তোলন করেছেন। এ সকল আবেদনের প্রেক্ষিতে এ অভিযোগ গুলো তদন্ত করতেই তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে সলুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক উত্তম কুমার মন্ডলকে। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সলুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ইয়াসিন আলী ও সলুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষ মোফিজুর রহমান। এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিও অজ্ঞাত কারণে সঠিক রিপোর্ট দেয়নি। ফলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ওই ঘটনায় পার পেয়ে যান। এ ঘটনায় মাফ পাওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান। বিদ্যালয়টি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন তিনি।
বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের অর্থ তছরুপের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু তিনি পতিত সরকারের ক্ষমতাধর হওয়ায় সে সময় তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বার বার ফোন করলেও তিনি রির্সিভ করেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম বজলুর রশিদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির আহমেদ বলেন, অভিযোগের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিউএনবি/আয়শা/১৭ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ১১:০৪