মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

ইরানকে হুমকি দিয়েই কি বড় বিপদে পড়লেন ট্রাম্প?

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১২২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে বর্তমানে জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কার্যত নিজেকে এমন অবস্থানে নিয়ে গেছেন, যেখানে তার সামনে খুব একটা সহজ পথ খোলা নেই। 

মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে নব্য-রক্ষণশীলরা ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করলেও ট্রাম্পের মূল সমর্থক গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী কোনো যুদ্ধে জড়ানোর ঘোর বিরোধী। ফলে হোয়াইট হাউসের জন্য এখন দ্রুত সামরিক অভিযানের চিন্তা করা যতটা সহজ, বাস্তবে তার বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন।

ইরান কোনো সাধারণ রাষ্ট্রকাঠামো নয়। তাই কেবল শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলেই পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে না। দেশটির ক্ষমতা কাঠামো মূলত একটি নেটওয়ার্কের মতো কাজ করে। যেখানে রেভল্যুশনারি গার্ড কোর, গোয়েন্দা সংস্থা এবং ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে ক্ষমতার একাধিক কেন্দ্র রয়েছে। এই ব্যবস্থায় একটি অংশ অকেজো হয়ে পড়লেও অন্য অংশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় থাকে। ফলে ভেনেজুয়েলার মতো এখানেও নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে কোনো ঝটিকা অভিযান করার চেষ্টা কৌশলগত সাফল্যের চেয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির ঝুঁকিই বেশি বাড়াবে।

আঞ্চলিক রাজনীতিও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হস্তক্ষেপ চাইলেও সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের মতো প্রভাবশালী উপসাগরীয় দেশগুলো এখন উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশ যদি তাদের ভূমি বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেয়, তবে দূরপাল্লার হামলা চালানো পেন্টাগনের জন্য যেমন ব্যয়বহুল হবে। তেমনি এর কার্যকারিতাও হবে সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখা। একইসঙ্গে যা আমেরিকাকে প্রভাবশালী হিসেবে হাজির করবে, আবার বড় যুদ্ধের সূচনাও করবে না।

মার্কিন নীতি নির্ধারকদের আসল লক্ষ্য হয়তো ইরানে পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা নয়। বরং ইরানকে একটি অর্থনৈতিক কাঠামোর আওতায় আনা যাতে তারা চীন-নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কে জড়ায়। তবে বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে কোনো দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা রাজনৈতিক আচরণ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। 

লিবিয়ার অভিজ্ঞতা শিখিয়েছে, আকাশপথ থেকে কখনোই আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা দেওয়া যায় না। উল্টো বাইরের কোনো বড় আঘাত ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভেদ কমিয়ে জনগণকে আবারও সরকারের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। সেই সঙ্গে রেভল্যুশনারি গার্ড কোরকেও আরও কঠোর দমনপীড়নের সুযোগ করে দিতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

কিউএনবি/অনিমা/১৬ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit