ডেস্ক নিউজ : ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুর) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাডি লড়াই হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন আবদুল হাকিম। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিগবার বাবা।
জামায়াত প্রার্থীর ছেলে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি হওয়ায় স্থানীয়দের ধারণা ছিল তরুণ ভোটারদের মধ্যে বাড়তি প্রভাব ফেলবে। কিন্তু ভোটের ফলাফলে সেই প্রভাব পড়েনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পারিবারিক পরিচয় ও সাংগঠনিক পদ থাকলেও তা সরাসরি ভোটে রূপান্তর করা কঠিন। মাঠ পর্যায়ে সংগঠনের প্রভাব তুলনামূলক কম।
স্থানীয় অনেকের মতে, সংগঠনের বড় পদ থাকলেই ভোট নিশ্চিত হয় না, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সক্রিয়কর্মী থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সিবগাতুল্লাহ সিগবা তার বাবার এক নির্বাচনি জনসভায় বলেছিলেন, আমার বাবার জন্য কি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে হবে? আমি জানি, চাইতে হবে না।
এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি বিতর্কের জন্ম দেন। যার কারণে শিবিরের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। যেখানে বাবার জন্য ভোট চাইবেন, সেখানে তিনি অতি আত্মবিশ্বাসী মনোভাব দেখান। আবার অনেকের মতে, নির্বাচনি মাঠে সিবগাতুল্লাহ সিগবার এ রকম কিছু আক্রমণাত্মক বক্তব্য ভোটের মাঠে তার বাবাকে পেছনে ফেলেছে।
কেন্দ্রগুলোতে বিএনপির শক্ত অবস্থানের বিপরীতে জামায়াতের অবস্থান ছিল দুর্বল। শিবিরের চেয়ে উপজেলা ছাত্রদল মাঠে সক্রিয় কাজ করার কারণে কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার পরও সেরকম প্রভাব ফেলতে পারেননি সিবগাতুল্লাহ।
অনেকেই আবার বলেছেন, স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের শিবির নেতাকর্মীদের সমন্বয়হীনতার কারণে এমন ফলাফল হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবিরের অনেকে বলেন, সিবগাতুল্লাহ সিগবার পরিবারের কাউকে নির্বাচনি মাঠে তেমন ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ১১:১২