আন্তর্জাতিক ডেক্স : মিয়ানমারের জান্তা-পরিচালিত নির্বাচনে সংসদের নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পাওয়ার দাবি করেছে দেশটির সেনাপন্থি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। মঙ্গলবার দলটির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা ওই দাবি করেছেন বলে এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বৈশ্বিক গণতন্ত্র পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থা বলছে, মিয়ানমারের এই নির্বাচন সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার পথকে আরও দীর্ঘায়িত করবে। অনেকেই জান্তার এই নির্বাচনের আয়োজনকে সাজানো বলে অভিহিত করেছেন। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় পুরো সময় ধরেই সামরিক শাসনের আওতায় রয়েছে মিয়ানমার। দেশটির গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটিয় দেশটির জেনারেলরা ক্ষমতা দখল করেন। অভ্যুত্থানে অং সান সু চির সরকারের পতন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এই নেত্রীকে আটক করা হয়। তখন থেকে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে এশিয়ার এই দেশটি।
ক্ষমতায় আসার চার বছরের বেশি সময় পর মিয়ানমারে কয়েক দফায় জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করেছে জান্তা সরকার। দেশটির তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোট আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জান্তা বলেছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
রোববার দেশটিতে অনুষ্ঠিত ভোটের দ্বিতীয় ধাপে ইউএসডিপি ১০০টির মধ্যে ৮৭টি আসন জিতেছে বলে দাবি করেছেন দলটির এক কর্মকর্তা। ফল প্রকাশের অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে এএফপিকে এই তথ্য দিয়েছেন।
প্রথম ধাপে নিশ্চিত বিপুল জয়ের সঙ্গে এই ফল যোগ হলে এখন পর্যন্ত দলটির নিম্নকক্ষে আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৬। নির্বাচিত মোট ৩৩০টি আসনের মধ্যে এটি অর্ধেকের কিছু বেশি। যদিও তৃতীয় ধাপের নির্বাচন এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি।
মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুজ গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে বলেছেন, জান্তা তাদের প্রতিনিধিকে বিজয়ী, মিয়ানমারে সামরিক আধিপত্য পাকাপোক্ত এবং বৈধতার ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য কৌশলগতভাবে এই নির্বাচন সাজিয়েছে।
মিয়ানমারের নিম্নকক্ষে মোট ৪৪০টি আসন রয়েছে। তবে সামরিক বাহিনীর প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী, এর মধ্যে ১১০টি আসন সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউএসডিপির বহু রাজনীতিক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা হওয়ায় দলটিকে সামরিক বাহিনীর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয়।
আগামী মার্চে দেশটির সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সময় নিম্ন ও উচ্চকক্ষের সদস্যরা যৌথভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং শীর্ষ সেনা পদ ছেড়ে বেসামরিক পদ গ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ করেননি।
কিউএনবি/মহন/১৩ জানুয়ারি ২০২৬,/বিকাল ৫:৫১