স্পোর্টস ডেস্ক : গ্রুপ-২ তে ৩ ম্যাচের সবগুলোই জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দুইয়ে আছে নিউজিল্যান্ড। আর ১ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান আছে তিন নম্বরে। যদিও পাকিস্তানের আরও একটি ম্যাচ বাকি আছে। সেমিফাইনালে যেতে হলে পাকিস্তানের জয়ের কোনো বিকল্প নেই, সেইসাথে মেলাতে হবে রানরেটের হিসাব। আর পাকিস্তান যদি হেরে যায়, সেক্ষেত্রে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে শেষ চারে খেলবে নিউজিল্যান্ড।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় নিউজিল্যান্ড। তবে ইংলিশ স্পিনারদের ঘূর্ণিতে খুব বেশি রান করতে পারেনি তারা। টিম সেইফার্টের ২৫ বলে ৩৫, ফিন অ্যালেনের ১৯ বলে ২৯ ও গ্লেন ফিলিপসের ২৮ বলে ৩৯ রানে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রানের সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড।
জবাব দিতে নেমে প্রথম ওভারেই ফিল সল্টের উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। পরের ওভারে জস বাটলারকেও হারায় তারা। স্কোরবোর্ডে ২ রান জমা হতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে ইংলিশরা। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন হ্যারি ব্রুক ও জ্যাকব বেথেল। দুজনে মিলে গড়েন ৩৫ বলে ৪৮ রানের জুটি। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন গ্লেন ফিলিপস। সাজঘরে ফেরার আগে ২৪ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার।
এরপর জ্যাকব বেথেলও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। দলীয় ৫৮ রানের মাথায় রাচিন রবীন্দ্র’র বলে ফিলিপসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২১ রান। ৫৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে আবারও বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড। সেখান থেকে এবার দলের হাল ধরেন টম ব্যান্টন ও স্যাম কারান। এই জুটি থেকে আসে ৩৫ বলে ৪২ রান।
দলীয় ১০০ রানের মাথায় ফেরেন স্যাম কারান। রাচিন রবীন্দ্র’র বলে ফিলিপসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে করেন ২২ বলে ২৪ রান। এর কিছুক্ষণ পরই সাজঘরে ফেরেন টম ব্যান্টন, দলীয় স্কোর তখন ৬ উইকেটে ১১৭। আউট হওয়ার আগে তিন বাউন্ডারি ও এক ওভার বাউন্ডারিতে ২৪ বলে ৩৩ রান করেন ব্যান্টন।
এরপর আর কোনো অঘটন ঘটতে দেননি রেহান আহমেদ ও উইল জ্যাকস। দুজনে মিলে ১৬ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে। উইল জ্যাকস ১৮ বলে ৩২ ও রেহান ৭ বলে ১৯ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। কিউইদের হয়ে রাচিন রবীন্দ্র নিয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়া ম্যাট হেনরি, লুকি ফারগুসন ও গ্লেন ফিলিপস নেন ১টি করে উইকেট।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় নিউজিল্যান্ড। উদ্বোধনী জুটিতে ৬৪ রান যোগ করেন দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন। সপ্তম ওভারের শেষ বলে আদিল রশিদের বলে ২৫ বলে ৩৫ রান সেইফার্ট ফিরলে ভাঙে এই জুটি।
এর পরপরই সাজঘরের পথ ধরেন ফিন অ্যালেন। ১৯ বলে ২৯ রান করে উইল জ্যাকসের বলে জ্যাকব বেথেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার। তৃতীয় উইকেট জুটিতে গ্লেন ফিলিপসকে নিয়ে এগোতে থাকেন রাচিন রবীন্দ্র। দলীয় ৯৭ রানের মাথায় রাচিনকে ফিরিয়ে সেই জুটি বেশি বড় হতে দেননি রেহান আহমেদ। বেথেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ১১ রান।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে মার্ক চ্যাপম্যানকে নিয়ে স্কোরবোর্ডে ১৮ বলে ২৬ রান যোগ করেন গ্লেন ফিলিপস। উইল জ্যাকস-এর বলে বোল্ড আউট হয়ে ফিলিপস ফিরলে ভাঙে এই জুটিও। এরপর আর কোনো ব্যাটারই ইনিংস বড় করতে পারেননি। চ্যাপম্যান ৯ বলে ১৫, ডারিল মিচেল ৮ বলে ৩ ও কোল ম্যাককঞ্চি ১২ বলে ১৪ রান করে আউট হন।
অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার অপরাজিত থাকেন ৫ বলে ৯ রান নিয়ে। আরেক প্রান্তে ম্যাট হেনরি অপরাজিত থাকেন ১ বলে ১ রান নিয়ে। ইংল্যান্ডের হয়ে আদিল রশিদ, উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদ ২টি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া লিয়াম ডসন নেন ১টি উইকেট।
কিউএনবি/আয়শা/২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ১২:০০