আন্তর্জাতিক ডেক্স : ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সেদেশের বিভিন্ন মহলে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে সব সময়ই একজন হিন্দু ব্যক্তিই বসবেন। এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অল ইন্ডিয়ান মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মাথায় টিউবলাইট রয়েছে এবং তিনি সংবিধানের মর্ম বুঝতে অক্ষম।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, ভারতের সংবিধান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ধর্মের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের অধিকার খর্ব করা যায় না। তিনি বলেন, বাবাসাহেব আম্বেদকরের রচিত সংবিধান অনুযায়ী দেশের যেকোনো নাগরিক প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মেয়র হতে পারেন। ওয়াইসি আরও বলেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন হিজাব পরা কোনও নারীও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন।
এই বক্তব্যের পরই প্রতিক্রিয়া দেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি বলেন, সংবিধানে কোনো বাধা নেই, যে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে তার বক্তব্য ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র এবং হিন্দু সভ্যতার ধারক। সেই কারণেই তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে সব সময় একজন হিন্দু ব্যক্তিই বসবেন।
হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার নেয়। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা এই প্রসঙ্গে বলেন, ওয়াইসি যদি হিজাব পরা নারীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান তাহলে আগে নিজের দল এআইএমআইএমের সভাপতি পদে কোনও হিজাব পরা নারীকে নির্বাচিত করুন।
এই মন্তব্যগুলোর পালটা দিতে গিয়ে আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান ওয়াইসি। তিনি বলেন, হিমন্ত বিশ্বশর্মার মাথায় টিউবলাইট রয়েছে। তার বক্তব্য বাবাসাহেব আম্বেদকর হিমন্ত বিশ্বশর্মার তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষিত এবং বুদ্ধিমান ছিলেন এবং সেই কারণেই তিনি এমন এক সংবিধান রচনা করেছিলেন যা সকল নাগরিককে সমান অধিকার দেয়।
ওয়াইসি বলেন, আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মানসিকতা অত্যন্ত ছোট এবং সংকীর্ণ। সেই কারণেই তিনি সংবিধানের বিরুদ্ধে গিয়ে এমন বক্তব্য রাখছেন। ওয়াইসির দাবি, আজও অনেক রাজনৈতিক নেতা ভারতের সংবিধান বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
বিজেপির বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ওয়াইসি বলেন, এই সরকার মুসলিম মহিলাদের হিজাব পরার অধিকারেও হস্তক্ষেপ করছে। তাঁর দাবি, ঘৃণার রাজনীতি বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না এবং দেশের মানুষ একদিন এর জবাব দেবে।
তবে শেহজাদ পুনাওয়ালার মন্তব্য নিয়ে আলাদা করে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি ওয়েইসি। প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে ধর্মীয় পরিচয় সামনে এনে এই বাকযুদ্ধ নতুন করে ভারতের রাজনীতিতে সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতা এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে।
কিউএনবি/মহন/১১ জানুয়ারি ২০২৬,/বিকাল ৫:০২