কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : দুদকের সমন জারি ও মামলা মাথায় নিয়ে ফের কুড়িগ্রাম টিটিসি মধু খেতে যোগদান করলেন দুর্নীতি পরায়ণ অধ্যক্ষ আবু মোঃ সৈয়দ রেজাউল করিম। কুড়িগ্রাম টিটিসিতে টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে গত ২০২৫ খ্রি. সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)তে চীফ ইন্সট্রাক্টর হিসেবে বদলি হন।কুড়িগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপসহকারী পরিচালক স্বাক্ষরিত পত্রে কুড়িগ্রাম টিটিসিতে টেন্ডার জালিয়াতির ঘটনায় অধ্যক্ষ আবু মোঃ সৈয়দ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়।
এছাড়া কুড়িগ্রাম টিটিসি’র নিয়োজিত ঠিকাদার হুমায়ুম কবীর প্রতারণা এবং চেক জালিয়াতির অভিযোগে বাদি হয়ে অধ্যক্ষ আবু মোঃ সৈয়দ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১১৫৬/২৫ (কুড়ি)। দুর্নীতি দমন কমিশন এবং কোর্টে মামলার প্রেক্ষিতে ঠাকুররগাঁওয়ে বদলীর ছয় মাসের মাথায় মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে আবারো কুড়িগ্রাম টিটিসিতে অদ্য ২৫ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেন। এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম টিটিসির শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে না করার শর্তে কুড়িগ্রাম টিটিসির জনৈক শিক্ষক বলেন, “দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ আবু মোঃ সৈয়দ রেজাউল করিমের কুড়িগ্রাম টিটিসিতে বেপরোয়া অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করেছেন। সেই লোভ সামলাতে না পেরে ছয় মাস না যেতে আবারো তিনি কুড়িগ্রামে যোগদান করলেন। দুদক এবং কোর্টে মামলা থাকার পরেও তিনি কিভাবে আবারো এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা তাকে কোনভাবেই মেনে নিতে পা”িছ না।”দুদকে অভিযোগকারী ঠিকাদার হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমার ভাগ্নাকে চাকুরি এবং আমাকে টেন্ডার পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন অধ্যক্ষ রেজাউল করিম। আমি বিশ্বাস করি দুদক এবং বিজ্ঞ আদালতে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যব¯’া গ্রহণ করবেন। আমি ন্যায় বিচার চাই।”এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম টিটিসি’র বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ রাশেদুল ইসলাম নবাগত অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, অভিযোগকারীরা জানান, ত্রুটিপূর্ণ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি ট্রেডের সাড়ে ১২ লাখ টাকার মালামাল ক্রয় না করে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরবরাহকারীর কাছ থেকে গ্রহণকৃত ২০ লাখ টাকার জামানতের চেক ফেরত দিতে টালবাহানা করেন এরই প্রেক্ষিতে দুদক এবং বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন ঠিকাদার হুমায়ুন কবীর। এছাড়া ওই ঠিকাদারের কাছে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ৭-৮ লাখ টাকা। টিটিসিতে কর্মরত অনেক স্টাফের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ সুবিধা নিতে না পেরে বেআইনিভাবে তাদের চাকরিচ্যুত করেছিলেন তিনি। তাদের শূন্যপদে নতুনভাবে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে বিনষ্ট করার জন্য ফ্যাসিস্টদের দোসর এ চক্রটি বহাল তবিয়তে তাদের পদে থেকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে আবারো কুড়িগ্রাম টিটিসিতে যোগদান করেছেন।
কিউএনবি/অনিমা/২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/সকাল ১১:০৫