শান্তা ইসলাম ,নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার জেলা শহরের পৌর বাহিড়চাপড়া গ্রামে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট রশিদ উদ্দিন ও তাঁর উত্তরাধিকারীদের মালিকানাধীন ওয়ারিশান সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, শতাধিক বছরের ওয়ারিশান বণ্টননামা ও রেজিস্ট্রেশনকৃত দলিলমূলে প্রাপ্ত ১ একর ৩৩ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখলে রয়েছেন।
নেত্রকোনা-টু-মোহনগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত এই জমি কুচক্রী মহলের যোগসাজশে জবরদখলের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, বাউল সম্রাট রশিদ উদ্দিনের ছেলে আর আমিন এবং তাঁর নাতি সোহরাব, কায়েস, খায়রুল, নজরুল ও সুমনসহ অর্ধশতাধিক এলাকাবাসী জানান—এই জমির মালিকানা ধারাবাহিকভাবে তাদের পূর্বপুরুষ মজম মণ্ডল থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত। পরবর্তীতে মস্রব উদ্দিন এবং তাঁর তিন পুত্র—মল্লিক উদ্দিন, রশিদ উদ্দিন ও নিজাম উদ্দিনের ওয়ারিশদের মধ্যে আইনগতভাবে বণ্টন সম্পন্ন হয়।
জমির একটি অংশ খরিদাসূত্রে বাহিড়চাপড়া গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলী ও মৃত মহব্বত আলীর উত্তরাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম ও সোহেল বাশারের মালিকানায় রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছরের মতো এবারও আগামী ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাউল সম্রাট রশিদ উদ্দিন স্মরণে আয়োজিত বাউল উৎসব ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে জমিতে থাকা দুটি ঘর ভাঙচুরের চেষ্টা চলছে। এতে উৎসব আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, মাহমুদা আক্তার পর্দার আড়াল থেকে উসকানি দিচ্ছেন এবং বালুয়াখালী গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে সজিব তালুকদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি এতে জড়িত। তাদের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের নামও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হলে নেত্রকোনার এডিএম আদালত (ADM Court) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বাদীপক্ষের অনুকূলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদেশের দলিল নম্বর ৩২৮৩ এবং মামলা নম্বর ৯০৫/২৫।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের প্রতিনিধি এমরান বাশার দাবি করেন, মাহমুদা আক্তারের এই জমিতে কোনো মালিকানা নেই। তারা প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকেই জমি ক্রয় করেছেন এবং প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে ভোগদখলে আছেন। কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকায় সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা চলমান বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নিয়মিত নজরদারি করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে অবৈধ দখলচেষ্টা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কিউএনবি/আয়শা/১১ জানুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৩:০৮