আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। শহরের শেখ মাকসুদ এলাকায় সিরীয় সেনাবাহিনী ব্যাপক তল্লাশি ও অভিযান শুরু করায় পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে। এই সহিংসতার জেরে গত কয়েক দিনে আলেপ্পোর আশরাফিয়া ও শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে অন্তত ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জরুরি সেবাপ্রধান মোহাম্মদ আল-রাজাব।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে কুর্দি যোদ্ধাদের তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ফিরে যাওয়ার জন্য ৬ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল। তবে আলেপ্পোর কুর্দি কাউন্সিল এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপরই সেনাবাহিনী শেখ মাকসুদ এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলা শুরু করে।
এসডিএফ-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি বাহিনী একটি হাসপাতালেও হামলা চালিয়েছে, যাকে তারা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে ওই হাসপাতালটি অস্ত্রাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জন নিহত এবং ১৭৩ জন আহত হয়েছেন। সিরিয়ার বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যে এটিই আলেপ্পোতে সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা।
আহমেদ আল-শারা’র নেতৃত্বাধীন সিরীয় সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তেল সমৃদ্ধ এলাকার নিয়ন্ত্রণ থাকা কুর্দি বাহিনীকে মূল সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। গত বছর মার্চ মাসে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি হলেও তা বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে দুপক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট প্রকট হয়েছে। তুরস্ক এই পরিস্থিতিতে সিরীয় সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে। তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার বলেছেন, সিরিয়ার নিরাপত্তা মানেই তুরস্কের নিরাপত্তা।
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে সিরিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জানান হয়েছে, আলেপ্পোতে ‘অবৈধ সশস্ত্র উপস্থিতি’ নির্মূল করতে তারা বদ্ধপরিকর।
কিউএনবি/মহন/১০ জানুয়ারি ২০২৬,/সকাল ১১:৩৪