স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২৫ এশিয়া কাপের ফাইনাল মাঠে গড়ানোর আগেই উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছে গিয়েছিল। গ্রুপ পর্ব ও সুপার ফোর পর্বে ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলা এবং পরবর্তী ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রেক্ষাপটেই ভারতীয়রা এই অবস্থান নেয়।
এশিয়া কাপ নিয়ে এবার নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি। বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে শাহিন বলেন, ‘সীমান্তের ওপারের লোকজন খেলাধুলার চেতনাকে লঙ্ঘন করেছে। আমাদের কাজ ক্রিকেট খেলা, আর সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা মাঠে পারফরম্যান্স দিয়েই জবাব দেওয়ার চেষ্টা করব।’
আফ্রিদির এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালোভাবে নেয়নি ভারতীয়রা। একজন লিখেছেন, ‘খালি কলসিই বেশি শব্দ করে।’ আরেকজন কটাক্ষ করে বলেন, ‘তুমি কি আদৌ জবাব দেওয়ার মতো অবস্থায় আছ?’ আরেকজন ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘জীবনে এমন আত্মবিশ্বাস চাই।’ কেউ কেউ আবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন—‘মাঠেই দেখা হবে।’
বর্তমানে হাঁটুর চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন শাহিন। লাহোরের হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে পিসিবির মেডিক্যাল প্যানেলের তত্ত্বাবধানে তার পুনর্বাসন চলছে। বুধবার পিসিবি আফ্রিদির রিহ্যাবের একটি ভিডিও প্রকাশ করলেও, চোটের মাত্রা বা পুরোপুরি ফিট হতে কতদিন লাগবে—সে বিষয়ে কিছু জানায়নি।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশ লিগের একটি ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে হাঁটুতে চোট পান শাহিন। এরপর তার দল ব্রিসবেন হিট তাকে ছেড়ে দেয় এবং পিসিবি তাকে পুনর্বাসনের জন্য দেশে ফিরিয়ে আনে।
এটি প্রথমবার নয়, হাঁটুতে আগেও চোট পেয়েছিলেন শাহিন। ২০২১ সালে গলে একটি টেস্ট ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় একই ধরনের চোটে পড়েছিলেন তিনি, যা তাকে কয়েক মাস মাঠের বাইরে রাখে।
পাকিস্তানের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা শাহিন। তার ফিটনেস আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সম্ভাবনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই বিশ্বকাপটি ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করছে।
পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলি আগা বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে সে বিশ্বকাপের আগে ফিট হয়ে উঠবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে (পাকিস্তান ক্রিকেট) বোর্ড, মেডিক্যাল প্যানেলের পরামর্শ অনুযায়ী।’
কিউএনবি/আয়শা/৮ জানুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৩:০০