বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন

প্রথম ধাপে ভেনেজুয়েলা থেকে ৫ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত তেল আনার ঘোষণা ট্রাম্পের

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে আনার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম ধাপে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত উচ্চমানের অপরিশোধিত তেল আনা হবে।

শনিবার ভোরে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে মার্কিন বাহিনী।

এরপর ট্রাম্প মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় প্রথম ধাপে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ‘উচ্চমানের কিন্তু নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত’ অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে।

ট্রাম্প বলেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উচ্চমানের অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত দরে এই তেল বিক্রি করা হবে এবং সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা—উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।”

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “এই তেল স্টোরেজ জাহাজে করে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে আনা হবে এবং বাজারমূল্যে বিক্রি করা হবে। পরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ আমি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইটকে দিয়েছি।”

এ বিষয়ে আরও তথ্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে তেল পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে এবং প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটি স্বাভাবিকভাবে তেল রফতানি করতে পারছে না। ট্রাম্প প্রশাসন এই উদ্যোগকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের নতুন কৌশল হিসেবে তুলে ধরছে।

 ট্রাম্প প্রশাসন এই সামরিক অভিযানকে ‘মনরো নীতির পুনর্বহাল’ এবং মাদক পাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব নিশ্চিত করাও এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে তেলসমৃদ্ধ দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য সংস্থা ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে কমপক্ষে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে—যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

তবে বিপুল মজুত থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে দেশটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বৈশ্বিক দৈনিক তেল সরবরাহের মাত্র শূন্য দশমিক আট শতাংশ।

ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল তুলনামূলকভাবে ভারী ও ঘন প্রকৃতির। এ ধরনের তেল উত্তোলন ও পরিশোধনে বাড়তি প্রযুক্তি ও সতর্কতা প্রয়োজন হলেও, এর মাধ্যমে উন্নতমানের ডিজেল, অ্যাসফল্ট, শিল্পকারখানায় ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানি এবং ভারী যন্ত্রপাতির জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব। 

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার এই ঘোষণা শুধু জ্বালানি বাণিজ্যের বিষয় নয়; বরং এটি লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: রয়টার্সবিবিসিআনাদোলু এজেন্সি

কিউএনবি/অনিমা/৭ জানুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৩:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit