খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর : শরীয়তপুরে লিকুইড প্যাট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে অনেক বেশী দামে বিক্রি হয়। বেশীদাম দিলেই পাওয়া যায় নিত্য প্রয়োজনীয় এই গ্যাস। সেই গ্যাসে জ¦লে চুলা। রান্না হয় খাবার। চাহিদা পূরণ হয় শিশু-বৃদ্ধসহ পরিবারের সকলের। গ্যাসের এমন মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেকে গ্যাস কিনে চুলা সচল রাখতে পারছেনা। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খাবারের হোটেলসহ দৈনন্দিন কাজের সকল পর্যায়ে।
শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে রয়েছে এলপি গ্যাসের গ্রাহক। অনেক পরিবার বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে এলপি গ্যাসের বিকল্প নাই। তাদের অধিক মূল্যে গ্যাস সংগ্রহ করা ছাড়া উপায় থাকছে না।
জেলা শহরের চরমনাই স্টোর গ্রাহক পর্যায়ে এলপি গ্যাস সরবরাহ করে থাকে। সেখানেও মঙ্গলবার ১২ কেজি ওজনের গ্যাস ১ হাজার ৫৫০ টাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে। অথচ সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি গ্যাসের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের মালিক কালাচান সরদার জানান, পরিবেশকদের কাছ থেকে তাদের বেশীদামে ক্রয় করতে হয় তাই বেশীদামে কিক্রি করেন।
এলপি গ্যাসের পরিবেশক শরীয়তপুর এলপিজি হাউজে গিয়ে দেখা যায়, এই পরিবেশক টোটাল, ওরিয়ন, আই গ্যাসসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের গ্যাস পরিবেশন করেন। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে তারাও কিছু বলতে পারেনি। সরকার নির্ধারিত মূল্যে তারা গ্যাস পায়না বলে জানায় এই পরিবেশক।
হোটেল মালিকরা জানায়, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পাওয়ায় তাদের খাবার তৈরীতে ব্যয় বেড়েছে। এই ভাবে চলতে থাকলে তাদের তৈরী খাবারের দাম বাড়াতে হবে। বাসা বাড়িতে যাদের গ্যাসের বিকল্প ব্যবহার নাই তারাও পড়েছে বিপাকে।
গ্যাসের উর্ধ্বগতির কারণ জানতে কথা হয় টোটাল গ্যাসের এরিয়া ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করেন শীর্ষ পর্যায় থেকে। গ্যাসের মূল্য নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে তা তিনি উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন।
এই বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর শরীয়তপুরের উপ-পরিচালক জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, এই বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন। বিভিন্ন পর্যায়ে তারা অভিযান শুরু করেছেন। যারা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশীদামে গ্যাস বিক্রি করছেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
কিউএনবি/আয়শা/৬ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ১১:২০