বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের উত্তেজনা হ্রাস করা জরুরি

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৭ Time View

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের উত্তেজনা হ্রাস করাটা জরুরি। এটি যত তাড়াতাড়ি হবে ততই ভালো। রাশিয়া বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করতে চায় না।

তবে রাশিয়া মনে করে, দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে যে স্তরে রয়েছে, সেখান থেকে উত্তেজনা যেন আর বাড়তে না পারে— সেজন্য একটি উপায় খুঁজে বের করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস এবং আস্থার ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। এমনটাই মন্তব্য করেছেন, ঢাকার নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিন। 

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকার রাশিয়ান দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত এমন মন্তব্য করেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিন নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক আসন্ন ভোটের তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘রাশিয়া আশা করছে নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।’ নির্বাচনে রাশিয়ার পর্যবেক্ষক পাঠানো নিয়ে এক  প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং কমিশনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের অপেক্ষায় রয়েছেন।’ 
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ তার অবস্থান ধরে রেখেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যাঘাত সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য টার্নওভার টানা তিন বছর ধরে ২ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে। রাশিয়া মূলত বাংলাদেশে যন্ত্রপাতি ও কৃষিপণ্য রফতানি করে, পাশাপাশি দেশ থেকে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য আমদানি করে। কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, আগামী বছরের শুরুতে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশিত হওয়ার পরে ২০২৫ সালের বাণিজ্য পরিসংখ্যানও শক্তিশালী থাকবে।
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গম, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শুধুমাত্র ২০২৫ সালে বাংলাদেশে রাশিয়ার গম রফতানি ২ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। উপরন্তু, রাশিয়ান সার এবং সরিষার বীজের সরবরাহ বছরে দ্বিগুণ হয়েছিল, যখন প্রায় ৪ লাখ টন পটাশ সার সরবরাহ করা হয়েছিল। রাশিয়ান ভেটেরিনারি ভ্যাকসিনের রফতানি ২৫ শতাংশ বেড়েছে।’ 
এ সময় রুশ রাষ্ট্রদূত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দুই দেশের ফ্ল্যাগশিপ যৌথ প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেন। চালু হওয়ার পরে, প্ল্যান্টটি বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে শক্তি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে এবং শিল্প প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করবে। 
ঢাকায় অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস জানান, পারমাণবিক শক্তি ছাড়াও রাশিয়ার গ্যাজপ্রম ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে, গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নকে সমর্থন করছে। ভোলা দ্বীপে বেশ কয়েকটি গ্যাস ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি স্বনির্ভরতায় অবদান রেখেছে। রাশিয়ান সংস্থাগুলি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অপরিশোধিত তেলের দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পগুলোতে সম্ভাব্য সহযোগিতা দিয়েছে।

শ্রম গতিশীলতা সহযোগিতার একটি ক্রমবর্ধমান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে রাশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রায় ২ হাজার ৮০০ ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে মাত্র ১১৫ টি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। নিরাপদ ও বৈধ নিয়োগ পদ্ধতির গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে নির্মাণ, কৃষি ও জাহাজ নির্মাণের মতো খাতে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া। 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২২ ডিসেম্বর ২০২৫,/রাত ১০:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit