এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় চায়না মিষ্টি জাতের কমলা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন যুবক জাফর ইকবাল উজ্জল খান। তিনি উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমান খানের ছেলে। বর্তমানে ২বিঘা জমিতে রয়েছে চায়না কমলা চাষ। গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা-কাঁচা কমলা।
এ জাতের চারালাগানোর মাত্র দেড় বছরে গাছে ফুল-ফল আসতে শুরু করেছে। বর্তমান তার কমলা বাগানের বয়স আড়াই বছর। এ বছর তিনি বাণিজ্যিকভাবে আরো ৩ বিঘা জমিতে কমলার চাষা শুরু করছেন। তিনি এ বছর প্রায় ৯ লাখ টাকার চায়না কমলা বিক্রি করেছেন। আর মাত্র ২০ দিন পর বাগান থেকে আরো প্রায় ৫০-৬০ মণ কমলা বিক্রি করার আশা করছেন। যা বর্তমান কমলার বাজার মূল্যে প্রতি মণ ৬ হাজার টাকা। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাদে বেশ লাভ হবে বলে জানান উজ্জল খান।
সরেজমিনে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে তার ফল বাগানে গিয়ে দেখা যায়, উজ্জল খান শ্রমিকদের সাথে ফল বাগানে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করছেন। এ সময় তিনি বলেন, পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় একটি চাকুরি শুরু করি। সে চাকরি ছেড়ে বাড়ীতে চলে আসি। পরে আর চাকরির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না না দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য বেচে নেন ফল চাষ। প্রথমে দুই বিঘা নিজের জমিতে শুরু করেন বিভিন্ন জাতের ফলের চাষ। বর্তমানে প্রায় ৪ বিঘা জমিতে রয়েছে দেশি বিদেশি নানান জাতের ফলের গাছ। পিয়ারা, আম, মাল্টা, ড্রাগণ আঙুর ও পিয়ারা চাষের পাশাপাশি চায়না মিষ্টি জাতের কমলা চাষের উদ্যোগ নেন তিনি।
উজ্জল খান প্রথমে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার বাসুদেবপুর এলাকার নার্সারী ব্যাসায়ী ইউছুপ আলীর নিকট থেকে ২৫/৩০টি চায়না মিষ্টি জাতের কমলার চারা সংগ্রহ করেন। পরে এগুলো থেকে কলম পদ্ধতি ব্যবহার করে দুই বিঘা জমিতে ২০০টি কমলা গাছ রোপণ করেন। কলমকৃত গাছের চারা থেকে দেড় বছরের মধ্যে কমলা পেতে শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বাণিজ্যিক ভাবে কমলা চাষের স্বপ্ন বুনছেন। কমলা বাগানে বাড়তি কোন ঝামেলা নেই। সময়মত জৈব সার, কীটনাশক ও ছত্রাক নাশক ¯েপ্র ব্যবহার করে কমলা গাছ থেকে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, চাকরির পিছনে না ছুটে আমি কৃষিতে আত্মকর্মসংস্থানের পথ ধরি। কমলা চাষের পাশাপাশি বাগানে বিভিন্ন রকমের ফলের গাছ রয়েছে। তবে কমলার বাজার চাহিদা ভালো থাকায় কমলা চাষের আগ্রহ বেড়ে যায়। আমার প্রতি বিঘা জমিতে ১শ টি করে কমলা গাছ রয়েছে। এটি মিষ্টি জাতের কমলা। দারুণ মিষ্টি ও সুস্বাধু বটে। বর্তমান বাগানের বয়স আড়াই বছর। শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিঘা প্রতি ৩০/৩১ হাজার টাকা খরচ করেছি। এ বছর আশা করছি বাগান থেকে যে কমলা বিক্রি করতে পারবোতাতে খরচ বাদে প্রায় ৫ লাখ টাকা লাভ হবে।
উজ্জল খান আরো বলেন, আমাদের দেশের মানুষের কমলা ফলের চাহিদা মেটাতে চায়না ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যদি দেশের মধ্যে কমলার বাণিজ্যিক চাষ করা যায় তাহলে চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাইরের দেশে রফতানি করা সম্ভব হবে। আমার ফল বাগানে কাজ করে ৫টি পরিবার ভালো ভাবে চলে যাচ্ছে। বর্তমানে ৫ জন শ্রমিক কাজ করেন তাদের প্রতিদিন হাজিরা ৫৫০ টাকা। দেড় বিঘা জমিতে কমলা চাষ করে প্রথম বছর ৫০ হাজার টাকা, দ্বীতিয় বছর আড়াই লাখ টাকা ও চলতি বছর প্রায় ৯ লাখ টাকার কমলা বিক্রি হবে ইনশাল্লাহ। এ সময় কমলা বাগানে কর্মরত শ্রমিক শহিদুল আলম বলেন, শিক্ষিত যুবকরা চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিতে ফল চাষে মনযোগ দিলে ভাল আয় করা সম্ভব। আমিও কমলা বাগান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই এ বাগানে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। তবে কৃষি বিভাগ যদি পাশে থাকে তাহলে কমলা চাষিরা আরো উপকৃত হবে।
এদিকে চায়না জাতের কমলা চাষ দেখতে প্রতিদিন শত-শত মানুষ উজ্জল খানের বাগানে আসেন। কমলা বাগান দেখতে আসা ঝিনাইদহ জেলার কোঁটচাদপুর উপজেলার বলাবাড়িয়া গ্রামের আশিকুর রহমান বলেন, আমি ফলের বাগান করতে চাই। ফেসবুকে এ বাগানের সন্ধান পেয়ে চাষ পদ্ধিতি দেখতে এসেছি। চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, চায়না জাতের এ কমলার চাষ উপজেলায় এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এ উপজেলায় কমলা চাষের এখন পর্যন্ত কোন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে হাকিমপুরের জাফর ইকবাল উজ্জল খানের কমলা বাগানে কৃষি বিভাগের সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন।
কিউএনবি/আয়শা/১৪ ডিসেম্বর ২০২৫,/রাত ৯:১৪