মিজানুর রহমান মিন্টু জয়পুরহাট প্রতিনিধি : হাই কোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জেলা প্রতিনিধিদের কাজে ফেরাচ্ছে না বিটিভি কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ৩১ শে অক্টোবর-২০২৪ তারিখে বাংলাদেশ টেলিভিশনে কর্মরত ৫৭ জন জেলা প্রতিনিধিকে একযোগে কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই এক আদেশে চাকুরীচ্যুত করা হয়। দীর্ঘ সময় কাজ করা সকল প্রতিনিধি তাদের এই আদেশ প্রত্যাহার পূর্বক পূণরায় কাজে যোগদানের জন্য পুনর্বহালের আবেদন করেন। কিন্তু কর্তপক্ষ তাদের কথা বিবেচনায় না নিয়ে নতুন করে প্রতিনিধি নিয়োগের সার্কুলার জারি করেন।
এমতাবস্তায় চাকুরিচ্যুত ৫৭ জনের মধ্যে ২ জন প্রতিনিধি বিটিভির এই আদেশ বাতিলে ১৩ নভেম্বর ২০২৪ সালে একটি রিট পিটিশন দাখিল করে। এই রিটের উপর শুণাণী শেষে ২০ নভেম্বর ২০২৪ সালে বিটিভির চাকরি থেকে অব্যহতির আদেশসহ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। স্থগিতাদেশের সাথে রুলনিশিও জারি করেন আদালত। পরে আরো ৪১ জন প্রতিনিধি পৃথক দুটি রিট মামলা দায়ের করে। এরপর ওই আদেশের বিরুদ্ধে বিটিভি কর্তৃপক্ষ চেম্বার জজে আপিল করলে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে শুনানী হয়।
শুনানী শেষে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটির শুনানীর ভিত্তিতে স্থিতি অবস্থা জারি করেন সেই সাথে রুলনিশি শুনাণী ও নিস্পতির জন্য হাইকোর্টে ফেরত পাঠান। পরে হাইকোর্ট একই বিষয় হওয়ায় ৩টি রিট একই সাথে শুনানী শেষে গত ২০২৫ সালের ০৩ সেপ্টম্বর তারিখে যতাযথ নিয়মে চাকুরীচ্যুত করা হয়নি মর্মে জেলা প্রতিনিধিরা বর্তমানে কর্মরত আছেন এবং পরবর্তী কার্যকর প্রদেক্ষপ না নেওয়া পর্যন্ত মামলার সকল প্রতিনিধির বেতন ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেন।
এদিকে হাইকোর্টের রায়ের প্রায় ৩ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত নানা টালবাহানায় বিটিভি কর্তৃপক্ষ কার্যকরী কোন প্রদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিটিভি’র পেশাদার এসকল সংবাদকর্মীরা জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকার এমনকি তত্ত্ববধায়ক সরকারের শাসন আমলেও নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে আসছেন। প্রায় ২০, ২২, ৩৪ ও ৪০ বছরেরও অধীক সময় ধরে কাজ করে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে এই কর্মের মাধ্যমে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করে আসছেন। দীর্ঘ ১২ মাস যাবৎ কর্মহীন থাকার ফলে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এরই মধ্যে ২ জন প্রতিনিধি বয়ষসীমার কারনে অবসরের দারপ্রান্তে উপনিত হয়েছেন। জীবনের অর্ধেকেরও বেশী সময় এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে শেষ সময়ে এসে এমন দূর্ভোগে পরে অনেকেই হতাশায় ভুগছেন। ভুক্তভোগীরা বিটিভি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টিকে মানবিক ভাবে বিবেচনায় নিয়ে কোর্টের রায়কে সম্মান দিয়ে অচিরেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। এ বিষয়ে বিটিভির বিভিন্ন কর্মকর্তার সাথে যোগায়োগ করলে তারা জানান, কোর্টের রায়ের পরে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত দিলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কিউএনবি/আয়শা/২৯ নভেম্বর ২০২৫,/সন্ধ্যা ৭:০০