আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার আগ্রাসন বা হামলার আশঙ্কায় ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে। এই তালিকায় এবার যুক্ত হলো ফ্রান্স। দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা আরও বাড়াতে একটি ‘স্বেচ্ছাসেবী সামরিক সেবা’ বা ভলান্টিয়ারি মিলিটারি সার্ভিস কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে ফরাসি সরকার।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, ফ্রান্সের সেনাবাহিনীকে সব সময় প্রস্তুত এবং শক্তিশালী রাখতে আরও বেশি তরুণ নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এই লক্ষ্যেই নতুন এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
আগামী গ্রীষ্মকাল থেকেই ১০ মাস মেয়াদী এই কর্মসূচি শুরু হবে। শুরুতে ৩,০০০ স্বেচ্ছাসেবী নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় ৫০,০০০ মানুষকে যুক্ত করা। যারা এতে স্বেচ্ছায় যোগ দেবেন, তাদের শুধু ফ্রান্সের ভেতরেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার পর থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো সামরিক খাতে খরচ বাড়িয়েছে। জার্মানি সহ বেশ কয়েকটি দেশ নতুন করে সেনা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
ফ্রান্সের সেনাপ্রধান জেনারেল ফ্যাবিয়েন ম্যান্ডন গত মাসে সতর্ক করে বলেছেন, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বড় কোনো আঘাত বা ‘শক’ আসতে পারে। এর জন্য ফরাসি বাহিনীকে এখনই প্রস্তুত হতে হবে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্যও করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে ফ্রান্সকে প্রয়োজনে অর্থনৈতিক কষ্ট সহ্য করতে হবে এবং এমনকি ‘সন্তান হারানোর’ মতো কঠিন পরিস্থিতির জন্যও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সে ২০০১ সালে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার সক্রিয় সেনা সদস্য রয়েছে। আগামী ১০ বছরে রিজার্ভ বা অতিরিক্ত সেনা সদস্যের সংখ্যা দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার।
কিউএনবি/অনিমা/২৯ নভেম্বর ২০২৫,/সকাল ৫:৩৫