মনিরুল ইসলাম মনি : শার্শা(যশোর)সংবাদদাতা : যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল গাজীপুর নামাজ গ্রামের পাশ্ববর্তি ইছামতি নদীর পাড়ের একটি বাঁশ বাগানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় উদ্ধারকৃত নবজাতকের দত্তক নিল বাঘারপাড়া উপজেলার নিঃসন্তান দম্পত্তি শিপন ও সুমাইয়া। ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার ১২জন নিঃসন্তান দম্পত্তির নেওয়ার জন্য আবেদন করেন।
শার্শা উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে ৫সদস্য বিশিষ্ঠ একটি কমিটি নবজাতক শিশুটিকে নেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সাক্ষাতকার গ্রহন করেন। এরপর শার্শা উপজেলা প্রশাসন শিপন ও সুমাইয়া নামে দম্পত্তির হাতে শিশুটিকে হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার দিপক কুমার সাহা, সমাজসেবা অফিসার তৌহিদুল ইসলাম, বিআরডিপি অফিসার সাকির হোসেন, নারী ও শিশু বিষয়ক অফিসার জাহান ই গুলশান ও শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলিম, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক দেওয়ান মোর্শেদ, দৈনিক লোকসমাজের শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম মনি, সাংবাদিক সৈয়দ আতিকুজ্জামান রিমু মোঃ শাহাবউদ্দিন, ইকরামুজ্জামান, বেনাপোল ৮৯১ এর শ্রমিক সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মোঃ শহীদ আলী।
শার্শা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত ১২ নভেম্ব বুধবার বেনাপোল গাজীপুরের পশ্চিম পাড়ার আলী হোসেন কালু ও তার স্ত্রী নার্গিস বেগম ইছামতি নদীর পাড়ে বাঁশবাগানে একটি ছেলে নবজাতক শিশু দেখতে পাই। এ সময় তারা শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়্। এরপর স্থানীয়রা বিষয়টি বেনাপোল পৌর সভার প্রশাসক শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডাক্তার কাজী নাজিব হাসানকে অবহিত করেন। খবর শুনে নির্বাহী অফিসার ডাঃ কাজী নাজিব হাসান ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন ও শিশুটির খাবারসহ সকল দায়িত্ব গ্রহন করেন।
তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া শিশুটি সৃস্থ্য আছে। শার্শা প্রশাসনের মনিটরিং ও আর্থিক সহায়তায় উদ্ধারকারী পরিবারের কাছে শিশুটিকে রাখা হয়েছে। পরবর্তিতে শার্শা উপজেলা শিশু কল্যান বোর্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। শার্শা উপজেলা নারী ও শিশু বিষয়ক অফিসার জাহান ই গুলশান জানান, শিশুটির ভবিৎসতের জন্য শার্শা উপজেলা প্রশাসন ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন। এরপর স্থানীয় পত্রিকায় উদ্ধারকৃত শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য আগ্রহী নিঃসন্তান ব্যাক্তিদের আবেদন করতে বলা হয়। তিনি জানান,১২ জন দম্পত্তি শিশুটিকে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। সেখানে যাচাই বাছাই করে ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের শিপন ও সুমাইয়া দম্পত্তির কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মিশুটির দত্তক শিপন ও সুমাইয়া জানান তার গত ১৫ বছর বিবাহ করেছে। তাদের আজও কোন সন্তান হয়নি। এজন্য পত্রিকায় খবর শুনে ছেলে শিশুটি নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তারা শিশুটিকে পেয়ে খুব খুশি হয়েছেন বলে জানান। তারা বলেন এখন থেকে এ শিশুর বাবা ও মা আমরা দুজন। তারা শিশুটিকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের দোয়া কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেনাপোল পোর্ট থানার এস আই মানিক কুমার সাহা জানান, গত ১২ নভেম্বর গাজীপুর গ্রামের আলী হোসেন কালু ও তার স্ত্রী নার্গিস বেগম ভোর বেলা তাদের বাড়ির পাশে ইছামাত নদীর পাড়ে বাঁশবাগানের মধ্যে একটি নব জাতক শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই। সেখানে তারা দেখতে পাই বাক প্রতিবন্ধি বেআব্রু অবস্থায় একটি পাগলি শুয়ে আছে। এরপর উদ্ধারকারীরা বাচ্চাটির নাড়ী কেটে পাগলির কাছে নিলে পাগলি বাচ্চাটির মুখ দেখে অন্যত্র চলে যায়। পরে অনেক খোজাখুজি করেও পাগলির কোন সন্ধান পওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
কিউএনবি/আয়শা/১৮ নভেম্বর ২০২৫,/সন্ধ্যা ৬:৫০