আইনজীবীরা বলেছেন, এ বক্তব্য মিথ্যা ছিল। শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে আইন প্রণয়নের কাজ ব্যাহত করার অভিযোগও আনা হয়েছে কোমির বিরুদ্ধে। কোমি ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এফবিআইয়ের প্রধান ছিলেন। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের কিছুদিনের মধ্যেই তাকে বরখাস্ত করেন।
কোমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ট্রুথ সোশ্যালে এক উদযাপনমূলক পোস্ট লেখেন, ‘এটা আমেরিকার জন্য ন্যায়বিচার! আমাদের এই দেশ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে যে খারাপ মানুষটির মুখোমুখি হয়েছে, তাদের অন্যতম জেমস কোমি, এফবিআইয়ের সাবেক দুর্নীতিবাজ প্রধান।’
অন্যদিকে এর প্রতিক্রিয়ায় কোমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘বিচার বিভাগের কারণে আমার মন ভেঙে গেছে। তবে কেন্দ্রীয় বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে এবং আমি নির্দোষ। তাই বিচার হোক এবং আস্থা থাকুক।’
বিষয়টাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দেখছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরাও। কোমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের খবরের সাথে সাথেই ভার্জিনিয়ার সিনেটর মার্ক ওয়ার্নারসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা এর সমালোচনা করেন।
২০১৫ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। তবে তার প্রশাসন এই প্রথম কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করতে সফল হলো।
ট্রাম্পের আরও কয়েকজন সমালোচকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করছে তার বিচার বিভাগ। তাদের মধ্যে রয়েছেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জন বোল্টন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত রাখার জন্য দেশটিতে কয়েক দশকের পুরোনো কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। ট্রাম্পের সমালোচক ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যদিয়ে এসব নিয়মকানুন লঙ্ঘন করা হয়েছে।