মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম

আকস্মিক সফরে তিব্বতে গেলেন শি জিনপিং

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭৩ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আকস্মিকভাবে তিব্বতে সফরে গিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতিগত ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার লাসায় অনুষ্ঠিত এক জনসভায় তিনি প্রায় ২০ হাজার মানুষের সামনে ভাষণ দেন, যেখানে তিনি বলেন— ‘তিব্বতকে শাসন, স্থিতিশীল ও উন্নত করতে হলে প্রথম শর্ত হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক স্থিতিশীলতা, জাতিগত ঐক্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতি’।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এই সফরটি চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে তিব্বত গঠনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। তিব্বতকে ১৯৫৯ সালে বেইজিংয়ের দখল নেওয়ার পর ১৯৬৫ সালে অঞ্চলটিকে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি)।

দালাই লামা প্রসঙ্গে নীরবতা

৭২ বছর বয়সি শি জিনপিংয়ের এ সফরে দালাই লামার নাম উল্লেখ করা হয়নি। ১৯৫৯ সালের ব্যর্থ বিদ্রোহের পর থেকে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। গত জুনে দালাই লামা ঘোষণা করেছিলেন যে তার উত্তরসূরি বাছাইয়ের অধিকার তার দফতরের, বেইজিংয়ের নয়। তবে চীন দাবি করে, উত্তরসূরি মনোনয়নের ক্ষমতা তাদের হাতেই রয়েছে।

বিবিসি দাবি করেছে, দালাই লামা সবসময় “মধ্যপন্থা” বা চীনের ভেতরে প্রকৃত স্বশাসনের পক্ষে কথা বলেছেন, যা বেইজিং “বিচ্ছিন্নতাবাদ” হিসেবে চিহ্নিত করে।

মানবাধিকার বিতর্ক

চীন দাবি করে তিব্বতিদের জীবনমান তাদের শাসনামলে উন্নত হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বেইজিং শতাব্দী-প্রাচীন তিব্বতি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধীরে ধীরে মুছে দিচ্ছে। সম্প্রতি সিচুয়ান প্রদেশের এক মঠে বিবিসিকে সন্ন্যাসীরা জানিয়েছিলেন, তারা মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন।

চীনের নীতির অংশ হিসেবে তিব্বতি শিশুদের এখন রাষ্ট্রীয় স্কুলে মান্দারিন শেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি “ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ” আরও জোরদারের আহ্বান জানান শি, যাতে “তিব্বতি বৌদ্ধধর্ম সমাজতান্ত্রিক সমাজের সঙ্গে খাপ খায়।”

উন্নয়ন ও সীমান্ত নিরাপত্তা

শি জিনপিং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিব্বতে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও জনবল বিনিময় জোরদার করার কথা বলেন। তিনি অঞ্চলটির চারটি প্রধান লক্ষ্যও তুলে ধরেন— স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সীমান্ত শক্তিশালী করা।

বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ

সফরের প্রেক্ষাপটে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো, সম্প্রতি সিসিপি তিব্বতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে। মোতো হাইড্রোপাওয়ার স্টেশন নামে পরিচিত এ প্রকল্প ইয়ালুং সাংপো নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে। প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (১৬৭ বিলিয়ন ডলার) ব্যয়ে নির্মিত বাঁধটি সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে থ্রি গর্জেস বাঁধকেও ছাড়িয়ে যাবে।

বেইজিং দাবি করছে, প্রকল্পটি পরিবেশ সুরক্ষা অগ্রাধিকার দেবে এবং স্থানীয় উন্নয়ন বাড়াবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই বাঁধ চীনকে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দিতে পারে, যা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২১ আগস্ট ২০২৫/সন্ধ্যা ৭:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit