বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম

ট্রাম্পের শুল্কাঘাতে ভারতে যেসব ব্যবসায় প্রভাব পড়বে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের রফতানি করা পণ্যে বাড়তি ২৫ শতাংশ কর আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২৭ আগস্ট থেকে ভারতের রফতানিকৃত পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। ভারতীয় রফতানিকারক সংস্থাগুলোর সংগঠন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই শুল্কনীতির কারণে সেদেশ থেকে আমেরিকায় রফতানির ব্যবসার উপরে ৫৫ শতাংশ প্রভাব পড়বে। যেসব দেশ (যাদের উপর কম শুল্ক চাপানো হয়েছে) যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি করে, তাদের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতায় নামতে হবে ভারতকে। অনেক ক্ষেত্রে সেই দেশগুলো বাড়তি সুবিধা পাবে। এতে বেশ কিছু পণ্যের রফতানি ব্যবসায় ধরাশায়ী হবে ভারত।

ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অরগানাইজেশনের সভাপতি এসসি রালহান বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, এই বর্ধিত শুল্ক মেনে নেওয়া কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র ভারতের থেকে দামি জহরত, গয়না, কাপড়, সামুদ্রিক মাছ, গাড়ির যন্ত্রাংশ ইত্যাদি কেনে। এসব ব্যবসাই এবার ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা দেশটির বণিকমহলের। বাংলাদেশ, ভিয়েতনামের মতো দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে কম শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। দেশটিতে পণ্য রফতানির প্রতিযোগিতায় এসব দেশ ভারতকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে ভারতীয় রফতানিকারক সংস্থাগুলোর একাংশ। 

যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোর পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে আমেরিকা ভারতে যত পণ্য রফতানি করেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি পণ্য আমদানি করেছে। অর্থাৎ ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যের ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪৫৮ কোটি মার্কিন ডলার। এবার নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হলে সেই ঘাটতি মিটিয়ে ফেলতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ২৭ আগস্ট থেকে এই নীতি কার্যকর হওয়ার কথা।

স্বস্তিকা ইনভেস্টমেন্ট নামে একটি বিনিয়োগকারী সংস্থার গবেষণা বিভাগের প্রধান সন্তোষ মিনা দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে জানিয়েছেন, ট্রাম্প যে শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন, তা অপ্রত্যাশিত। 

মিনা জানিয়েছেন, শুল্কনীতি কার্যকর হওয়ার আগে এখনও আলোচনার সময় রয়েছে। ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের ভারতে আসার কথা। এই পদক্ষেপকে ট্রাম্পের ‘আগ্রাসী কৌশল’ বলেও বর্ণনা করেছেন মিনা।

তিনি জানিয়েছেন, ভারতের অর্থনীতিকে টেনে নিয়ে যায় দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা। তার সঙ্গে সরাসরি আমেরিকার কোনও যোগ নেই, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, বৈদ্যুতিন ক্ষেত্র ছাড়া। তবে আশার কথা-এই তিনটি ক্ষেত্র নতুন শুল্ক তালিকায় নেই। তবে কাপড়, জহরত, গয়না, চামড়ার ব্যবসা চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মিনা।

ভারতে কোন কোন ব্যবসায় প্রভাব পড়বে?

সামুদ্রিক মাছ

ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে ভারতের সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণীর ব্যবসায়। ভারত যত সামুদ্রিক মাছ (সিফুড) রফতানি করে, তার ৪০ শতাংশই যায় আমেরিকায়। প্রায় ৬০ হাজার কোটি রুপির সামুদ্রিক মাছ যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করে ভারত। সবচেয়ে বেশি রফতানি করে চিংড়ি। ভারতের সামুদ্রিক মাছ, প্রাণী রফতানিকারক সংস্থার সভাপতি পবন কুমার জি জানিয়েছেন, এই শুল্কনীতির প্রভাব ব্যবসার পাশাপাশি মৎস্যজীবী, কৃষকদের উপরেও পড়বে।

কাপড়

নয়ডা, সুরত, তিরুপ্পুরের কাপড় রফতানিকারক সংস্থাগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির জন্য কাপড় তৈরি আপাতত স্থগিত রাখবে।

তিরুপ্পুর বস্ত্র রফতানি সংগঠনের চেয়ারম্যান শক্তিভেল ‘ইকোনমিক টাইম্‌স’কে জানিয়েছেন, নতুন এই শুল্কনীতির প্রভাব ব্যবসার উপরে পড়বে, যতক্ষণ না ভারত আমেরিকার সঙ্গে অনুকূল কোনও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করবে। 

কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির (সিআইটিআই) সভাপতি সঞ্জয় জৈন জানিয়েছেন, নতুন অর্ডার আপাতত আসবে না। পুরনো অর্ডারের পণ্য ক্ষতির মুখে পড়েই রফতানি করতে হবে। আমেরিকার বিশাল বাজারে কাপড় রফতানিতে সুবিধা করে নেবে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম— তেমনটাই মনে করছে দেশটির বস্ত্র উৎপাদনের সংগঠনগুলো।

জহরত, গয়না

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ৮৩ হাজার কোটি রুপির জহরত এবং পাথর বসানো গয়না রফতানি করেছে ভারত। ভারতীয় জহরতের সবচেয়ে বড় বাজার হল আমেরিকা। জেম অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কিরীট বানসালী জানিয়েছেন, আমেরিকার পরিবর্তে বিকল্প দেশে জহরত রফতানির পথ দেখবে ভারত। তাদের নজরে রয়েছে দুবাই, মেক্সিকো।

গাড়ির যন্ত্রাংশ

ভারত যত পরিমাণ গাড়ির যন্ত্রাংশ রফতানি করে বিভিন্ন দেশে, তার অর্ধেকই যায় আমেরিকায়। প্রায় ৬১ হাজার কোটি রুপির যন্ত্রাংশ রফতানি করা হয়। তবে গাড়ি রফতানি তারা করে না। ওই ক্ষেত্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন শুল্কনীতির কারণে অর্ধেক রফতানি ধরাশায়ী হবে।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, শুল্কনীতির প্রভাব পড়বে ভারতের এসব ক্ষেত্রের কর্মী নিয়োগেও। যেসব পণ্য রফতানি করা হতো আমেরিকায়, সেগুলোর ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে ছাঁটাই হতে পারেন কর্মী। পরোক্ষে প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতেও। সূত্র: আনন্দবাজার

কিউএনবি/অনিমা/০৯ আগস্ট ২০২৫/বিকাল ৩:১৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit