ডেস্ক নিউজ : শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক ব্যাখ্যায় বিজিবি এমনটা জানায়। ওই ব্যাখ্যায় বিজিবি বলেছে, গত বছরের ১৯ জুলাইয়ের সহিংসতার ঘটনায় বিজিবিকে এককভাবে দায়ী করে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ডেইলি স্টারের মতো একটি মূলধারার পত্রিকার মাল্টিমিডিয়ায় আংশিক সত্য নিয়ে এমন মনগড়া, ভিউ প্রত্যাশী প্রতিবেদন আমাদের বিস্মিত করেছে। এতে বিজিবি আরও দাবি করে, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের ফরেনসিক গবেষণার বরাত দিয়ে ‘রামপুরা হত্যাকাণ্ড: বিজিবি কি দায়ী? ভিডিও বিশ্লেষণ যা বলছে’ এবং ‘অ্যানাটোমি অব বিজিবি শুটিং ইন রামপুরা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিজিবিকে একতরফাভাবে দোষারোপ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের শুরুতে কমলা রঙয়ের টি-শার্ট পরিহিত যুবক রমজানের গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য প্রদর্শিত হয়। ভিডিওর ৩১ সেকেন্ডে প্রদর্শিত ফুটেজটি নিঃসন্দেহে কোনো বহুতল ভবনের ওপর থেকে রেকর্ডকৃত। কে বা কারা যুবক রমজানের দিকে অস্ত্র তাক করেছিল তার সুনির্দিষ্ট তথ্য/প্রমাণ ভিডিওটিতে অনুপস্থিত। এছাড়াও রমজানের চতুর্পার্শ্বে আরও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ থাকায় আপাতভাবে মনে হচ্ছে তাকে কোনো ছাদ থেকে অথবা উঁচু স্থান থেকে গুলি করা হয়েছে, তা না হলে তার গায়ে না লেগে তার চতুর্পাশ্বে যারা রয়েছে, তাদের কারো গায়ে লাগার কথা। জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার মানসে বিজিবির দিকে অঙ্গুলি প্রদর্শনপূর্বক ফুটেজটির অবতারণা করা হয়েছে। এছাড়াও ভিডিওর ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড হতে ১ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত দেখানো হয়েছে অন্য একটি বাহিনীর ফায়ারিংয়ের দৃশ্য। টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের ২০০ ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে ওই বাহিনীর সদস্যদের ফায়ারিংয়ের চিত্র দৃশ্যায়িত হলেও অজানা কোনো এক কারণে বাহিনীটির নাম উচ্চারিত হয়নি।
ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি নিয়ে অপতথ্য১৬ জুলাই হতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সমগ্র দেশে পূর্ববর্তী সরকারের আদেশে বিজিবি মোতায়েন করতে হয়েছিল দণ্ডবিধি ১৮৯৮-এর ১২৮-১৩২ ধারা ও ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফ্লস রেগুলেশন ১৯২২-এর ৩১০, ৩১০-এ অনুযায়ী। প্রতিবেদনে ম্যাজিস্ট্রেট অনুপস্থিত থাকার দাবি করা হয়েছে, অথচ সরকারি নথিতে উক্ত তারিখে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটদের পূর্ণ তালিকা বিদ্যমান ও আদালতে উপস্থাপিত। ফুটেজে ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখা যায়নি মানে এই নয় যে তিনি/তারা সেখানে ছিলেন না।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিজিবি কর্তৃক ৯৭২ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে যে বিজিবির ধ্বংসপ্রাপ্ত/পুড়ে যাওয়া জিপ এর অভ্যন্তরে থাকা ৬০০ রাউন্ডের বেশি গোলাবারুদ ছিল, তা উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ উল্লেখিত গুলির মধ্যে অধিকাংশই পুড়ে যাওয়া গাড়ির অভ্যন্তরে রাখা ধ্বংসপ্রাপ্ত গুলি এবং ঊর্ধ্বমুখে ছোড়া অধিকাংশ ফাঁকা গুলি ছিল।
বিজিবির কোনো ‘র্যাপিড অ্যাকশন টিম মাঠে নামেনি, এলএমজি কিংবা কোনো ভারি অস্ত্র গাড়ির ছাদে বসানো হয়নি, কোথাও বালুর ব্যারিকেডও গড়ে তোলা হয়নি, আন্দোলনের বিরুদ্ধে কোনো হেলিকপ্টার ব্যবহার করেনি। যখন গণগ্রেফতারের আদেশ হয়েছিল তখনও বিজিবির কোনো টহল একজন ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করেনি। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত বিজিবির কোনো স্থাপনায় কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গকে আশ্রয় গ্রহণ করতে দেয়া হয়নি।
ভিডিও বিশ্লেষণ বলছে-৫ মিনিটের ব্যবধানে ইট-বাঁশ-পেট্রলবোমা নিক্ষিপ্ত হওয়ার পরই বিজিবি সতর্ক-ফায়ার দেয়। পুলিশের ব্যর্থতায় স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে বিজিবির সহায়তা চায়, যা প্রতিবেদক নিজের ভাষ্যেই স্বীকার করেছেন। অথচ পূর্ণ প্রেক্ষিত বাদ দিয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ক্লিপ তুলে ধরে ‘বিনা উসকানিতে গুলি’ শীর্ষক উপসংহারে উপনীত হওয়া নিতান্তই সাংঘর্ষিক।
জন-সমর্থনের চিত্রআইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনা সমূহ আন্দোলনকারীদের দ্বারা আক্রান্ত হলেও সারা দেশে বিজিবির সকল ক্যাম্প অক্ষত ছিল। রামপুরা, বাড্ডা, গুলশানসহ বহু এলাকায় টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায় ছাত্র-জনতা বিজিবির টহলকে আক্রান্ত করেনি, বরং অনেক স্থানে একইসঙ্গে বিজিবি ও ছাত্র জনতাকে সহমতে সংহতি প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। বিজিবির দুই একজন সদস্য যাকে/যাদেরকে প্রচলিত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বল প্রয়োগ করতে দেখা গেছে, তার/তাদের কারণে একটি বাহিনীকে সামগ্রিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘণকারী বলতে হলে দৃঢ়, যাচাইকৃত প্রমাণ দরকার, যেটি রিপোর্টে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুপস্থিত। এছাড়াও উল্লেখ্য যে, এক্ষেত্রে বিজিবি কর্তৃক দ্রুততার সঙ্গে ঘটনার দুই মাসের মধ্যেই প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের ১৪:২৪ মিনিটে ৩ জন বিজিবি সদস্যকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে এডিটকৃত গুলির শব্দ সংযোজন করে এখানে একটি নাটকীয় সাউন্ড ইফেক্ট আনার অপচেষ্টা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিজিবির সদস্যরা অনেক পরিমাণ গুলি করছেন মর্মে ভুল দৃশ্য উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। বিজিবির মতে, রামপুরার ঘটনায় প্রাণহানি নিশ্চিতই বেদনাদায়ক এবং কোনোভাবেই মানা যায় না। দোষী ব্যক্তির অবশ্যই শাস্তি প্রাপ্য। তবে যেকোনো তদন্তে সততা কাম্য। নির্বাচিত ফুটেজ, অনুমান ও আংশিক তথ্য নিয়ে রচিত গল্পকে ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং’ বলা যায় না। সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ায় যদি কোনো বিজিবি সদস্য দোষী প্রমাণিত হন, তার শাস্তি বিধানের বিষয়ে বিজিবিও সম্পূর্ণ একমত।
কিউএনবি/আয়শা/৮ আগস্ট ২০২৫/রাত ১১:২০