শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
এআই দিয়ে প্রয়াত অভিনেতার মুখে সংলাপ বসালেন পরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে পর্যটন সহযোগিতা বাড়াতে চায় ফিলিপাইন ভারতে ডিজিটাল প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেবে ব্যাংক ইথিওপিয়াকে ১২ যুদ্ধবিমান ও চার এস-৪০০ দিচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের স্থান পরিবর্তন চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে রোগীর মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা এলপিজি বিক্রির কমিশন দুই থেকে তিনগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব সারেনি বিমানের ত্রুটি, বিমান থেকে নামলেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হচ্ছে গঙ্গা চুক্তি, ভাগ্য বদলাবে কি নবায়ন চুক্তিতে? পর্যটনে এআই ও টেকসই গন্তব্যের বার্তা নিয়ে ঢাকায় বিটিটিএফ শুরু

যেভাবে হয়েছিল মহানবী (সা.)-এর কাফন ও দাফন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ১০০ Time View

ডেস্ক নিউজ : মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সীমাহীন ব্যথার ভারে মুহ্যমান হয়ে যান। তাঁদের অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন যে, নবীজি (সা.) দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। ব্যথার ভার তাঁদের অনেকটাই নিশ্চল করে দিয়েছিল। ফলে শোক ও ব্যথার ঘোরে কেটে গেল তাঁদের অনেকটা সময়।

এরপর শুরু হলো নবীজি (সা.)-এর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন। এ বিষয়ে প্রত্যেকেই নিজ নিজ মতের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলেন। অবশেষে আবু বকর (রা.)-এর নেতৃত্বের ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলো। এতেও কিছু সময়ক্ষেপণ হলো।

এ অবস্থায় সোমবার দিবাগত রাত অতিবাহিত হয়ে মঙ্গলবার সকালের আগমন ঘটে। এ সময় পর্যন্ত নবীজি (সা.)-এর পবিত্র দেহ মোবারক একটি জরিদার ইয়েমেনি চাদর দ্বারা আবৃত ছিল। তিনি নিজ বিছানায় শায়িত ছিলেন। ঘরটি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখা ছিল।

মঙ্গলবার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কাপড়সহ গোসল দেওয়া হলো। গোসল দেওয়ার কাজে অংশ নিলেন আব্বাস (রা.), আলী (রা.), আব্বাস (রা.)-এর ছেলে ফজল ও কাশেম (রা.)। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রাসুলে আকরাম (সা.)-এর আজাদকৃত দাস শাকরান, উসামা বিন জায়েদ ও আউস বিন খাওলি (রা.)। আব্বাস, ফজল ও কাশেম (রা.) নবীজি (সা.)-এর পাশ পরিবর্তন করে দিচ্ছিলেন। উসামা ও শাকরান (রা.) পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন, আলী (রা.) ধৌত করছিলেন এবং আউস (রা.) নবী করিম (সা.)-এর দেহ মোবারককে আপন বক্ষের ওপর ভর করে নিয়ে রেখেছিলেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তিনবার কুলপাতামিশ্রিত পানি দ্বারা গোসল দেওয়া হয়। কুবায় অবস্থিত ‘গারস’ নামক কূপের পানি দিয়ে তাঁকে গোসল দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই কূপের পানি পান করতেন। গোসলের পর তিনটি কুরসুফ থেকে তৈরি সাদা ইয়েমেনি চাদর দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাফনের ব্যবস্থা করা হলো। এসবের মধ্যে জামা কিংবা পাগড়ি ছিল না।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্তিম শয্যা কোথায় হবে, তা নিয়ে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর ভেতর মতভিন্নতা ছিল। কিন্তু আবু বকর (রা.) বললেন, ‘আমি নবীজি (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘কোনো নবীকে (পৃথিবী) থেকে ওঠানো হয়নি (মৃত্যুবরণ করেননি) তাঁকে সেই স্থানে দাফন করা ছাড়া, যেখানে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’ এই মীমাংসার পর নবী আকরাম (সা.) যে বিছানায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন, আবু তালহা (রা.) তা উঠিয়ে নিলেন। অতঃপর তার নিচে বগলি কবর খনন করা হলো।

এরপর সাহাবায়ে কেরাম (রা.) পালাক্রমে ১০ জন করে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে জানাজা আদায় করলেন। তাঁর জানাজায় নির্ধারিত কোনো ইমাম ছিল না। সর্বপ্রথম নবীজি (সা.)-এর পরিবার বনু হাশিমের লোকেরা জানাজা আদায় করেন। এরপর ক্রমান্বয়ে মুহাজির ও আনসাররা জানাজা আদায় করেন। অতঃপর ক্রমান্বয়ে অন্যান্য পুরুষ, মহিলা ও শিশুরা জানাজা আদায় করেন।

জানাজা আদায় করতে মঙ্গলবার দিবস পুরোটাই অতিবাহিত হয়ে যায়। মঙ্গলবার দিবস অতিবাহিত হওয়ার পর বুধবার রাতে নবী করিম (সা.)-এর দেহ মোবারক সমাহিত করা হয়। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘পুরো দিনটিই জানাজা চলার কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাফন সম্পর্কে আমাদের জানা ছিল না। এভাবে সময় অতিবাহিত হতে থাকার পর বুধবার রাতের মধ্যভাগে দাফন-কাফনের শব্দ কানে আসে।’

কিউএনবি/অনিমা/৪ আগস্ট ২০২৫/বিকাল ৩:৩৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit