স্পোর্টস ডেস্ক : একটু এদিক-সেদিক হলেই গড়বড় হয়ে যেত সব। লাহোরের বিমানবন্দরে যখন সিকেন্দার রাজা নামলেন তখন ম্যাচের বাকি মিনিট দশেক। কালক্ষেপন করেননি শাহিন শাহ আফ্রিদি। আগে থেকেই দুটি একাদশ বানিয়ে রেখেছিল লাহোর কালান্দার্স। আফ্রিদি ‘অপশন’ করে রাখা তালিকাটিই জানিয়ে দেন—এরাই পিএসএল ফাইনালের স্বপ্নদ্রষ্টা।
রাজার অবশ্য পিএসএল খেলার সম্ভাবনাই ছিল না। কোয়ালিফায়ারে যখন লাহোর তখন জাতীয় দলের ডাক আসে। রাজা পাকিস্তান থেকে দুবাই হয়ে পৌছান নটিংহ্যামে। সেখানে ঐতিহাসিক চার দিনের টেস্টে লড়েন। ব্যাট হাতে খেলেন দুর্দান্ত এক ফিফটি। জিম্বাবুয়ে একদিন আগেই টেস্টটি হেরে যায়, রাজার সুযোগ আসে। শাহিনের দল যোগাযোগ করে, রাজাও বিমানে চেপে বসেন।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে নটিংহ্যাম থেকে বার্মিংহামে এসে ধরেন বিমান। দুবাইয়ে নামেন সকালে। সেখান থেকে পাকিস্তানের লাহোর। এরপর পিএসএলের ফাইনালম্যান। একদিনে দুটি ফরম্যাটে খেলার সেই গল্প লাহোরকে চ্যাম্পিয়ন বানানোর পর শুনিয়েছেন রাজা, ‘গতকাল (শনিবার) প্রায় ২৫ ওভার ব্যাট করেছি। আমি বার্মিংহামে রাতের খাবার খেয়েছি, দুবাইতে সকালের নাস্তা, আবুধাবিতে দুপুরের খাবার, এবং অবশেষে লাহোরে পৌঁছেছি।’
রাজা জানতেন তার কাজ কি, সুযোগ পেয়ে সেটি করেও দেখিয়েছেন। সেই গল্পই বলেছেন জিম্বাবুয়ের তারকা এই ক্রিকেটার, ‘আমি জানতাম আমার দলের আমাকে কতটা প্রয়োজন। জিতে ভালো লাগছে। আমি মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ অবসাদগ্রস্ত ছিলাম। আমি নিজেকে বলেছিলাম যে যে বলই আসুক না কেন, আমি আমার সেরা শট খেলব।’গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার রাতে গ্ল্যাডিয়েটর্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় লাহোর। ২০২ রানের লক্ষ্যে এক বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন দলটি।
কিউএনবি/আয়শা/২৬ মে ২০২৫, /সন্ধ্যা ৭:১২