আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চারদিনের সংঘাতের পর ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, এই যুদ্ধবিরতি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস ও অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
চার দিনের ভয়াবহ সংঘর্ষ
পেহেলগামে বন্দুক হামলার ঘটনায় পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে ভারত। এ নিয়ে গত ৭ মে রাত ১টা ৫ মিনিটে ভারতের ‘অপারেশন সিদুঁর’ শুরু করে নয়াদিল্লি। মাত্র ২৩ মিনিটের মধ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের ৯টি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এরপর টানা চার দিন উভয় দেশের মধ্যে যুদ্ধকালীন তীব্রতা দেখা যায়।
পাকিস্তান পাল্টা জবাবে ভারতের তিনটি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে বলে দাবি করে। এ ছাড়া ১২টি ভারতীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়। পা কিস্তান এই অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’।
এ সময় দুই দেশের অর্থনীতি প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সামরিক ব্যয়, বিমান চলাচল স্থগিত হওয়া, খেলাধুলা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দুদেশই।
ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি
পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে শনিবার দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে ‘ঐতিহাসিক ও বীরোচিত’ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন এবং কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে ভবিষ্যতে কাজ করার ঘোষণা দেন।
যুদ্ধবিরতির পরও উত্তেজনা
যদিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন, যা ইসলামাবাদ প্রত্যাখ্যান করে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা যুদ্ধবিরতির সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কিউএনবি/আয়শা/১১ মে ২০২৫, /বিকাল ৪:১৮