শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার কারণ জানালেন রুমিন ফারহানা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২২ Time View

ডেস্ক নিউজ : সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সংবিধানের অধীনেই তিনি প্রথম শপথ গ্রহণ করেছেন এবং একই সঙ্গে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়া আইনগতভাবে সাংঘর্ষিক ও অযৌক্তিক। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জার্মানিভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের (বাংলা) একটি টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমার যুক্তিটা ছিল যে আপনি এখনো বর্তমান যে সংবিধান সেটার উপরে ভিত্তি করে এতদূর এসেছেন। আপনি যদি ৫ আগস্টের পর শুরুতেই বলতেন, এটা বিপ্লবী সরকার। এই সংবিধান আমরা মানি না। এই সংবিধান আমরা ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছি। আমরা নতুন সংবিধান রচনা করব। তাহলে আমাদের দ্বিতীয় শপথ নেওয়ার একটা লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হতো। কিন্তু যেহেতু আপনি সেটি করেননি, সেহেতু বর্তমান এক্সিস্টিং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন এবং গত দেড় বছরের লেজিটিমেসিকে আপনি ১০৬ দ্বারা নির্ধারণ করেছেন, তাহলে তো আর আপনার এই সংবিধানের বাইরে গিয়ে দ্বিতীয় শপথ নেওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকে না।

তিনি বলেন, আমিও মনে করেছি যেহেতু প্রথম শপথটা নিয়েছি এক্সিস্টিং সংবিধানের অধীনে। সো দ্বিতীয় শপথটা আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। দ্বিতীয়বার শপথ নিলে তার প্রথম শপথটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, দ্বিতীয় শপথ নিলে প্রথম শপথ যেটা নিয়েছি সেটা নালিফাই হয়ে যায়। এটা আমার যুক্তি ছিল। কারণ এই যে বিতর্ক, এই যে আলোচনা এটা খুবই ইন্টারেস্টিং। এটা নিয়ে তো নানা রকম আসপেক্টও আসছে।

তিনি বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নেওয়ার প্রক্রিয়া অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং এখন পর্যন্ত যা যা হচ্ছে সেটা নিয়েও তো অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। শুরুতে আসলে ১০৬ এ অনুচ্ছেদের যে প্রয়োগ সেটা যথাযথভাবে করা হয়নি এবং আমরা দেখলাম যেই বিচারকরা এটার পরামর্শ দিয়েছেন তারাও আসলে পদত্যাগ করেছেন। কেউ কেউ বলছে তাদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। কেউ বলেছেন তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তারাও পদত্যাগ করে চলে গেছেন। রুমিন ফারহানা বলেন, এখন যে আলোচনাটা আসছে, সেটা আসলে তাহলে তো পুরো বিষয়টা নিয়েই বিতর্ক তোলার সুযোগ আছে। শুধুমাত্র এই একটা দিক না, অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রক্রিয়ায় গঠন করা হয়েছিল সেটা কি সংবিধানে যথাযথ প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে?

ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে যদি কেউ প্রশ্ন তুলতে চায়, ভবিষ্যতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রশ্ন তোলা যাবে। তবে আমরা যদি একটা মানে লিগাল জরিসফুডেন্সের একটা ইয়ে আছে যে যেটা হয়ে গেছে সেটা হয়ে গেছে। হ্যাঁ, সেটা যদি আমরা সেই প্রিন্সিপাল অনুযায়ী যাই তাহলে আসলে আপনি এটাকে যতই চ্যালেঞ্জ করেন সময়টাকে তো আসলে পিছিয়ে নিয়ে গিয়ে আর সেটিকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই না? 

তিনি আরও বলেন, ধরুন আজ থেকে ১০ বছর পর যদি এটা চ্যালেঞ্জড হয় তাহলে তো আর ১০ বছর আগের আজকের সময়টাতে ফিরে যাওয়া যাবে না। সো যা হয়ে গেছে সেটাকে ইট ইজ নিয়ে নিতে হবে। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে হ্যাঁ সার্টেনলি আপনি যদি লিগাল ইন্টিগ্রিটিতে যান প্রত্যেকটা জায়গায় চ্যালেঞ্জ করবার অনেক সুযোগ আছে।

 

কিউএনবি/আয়শা/১৮ এপ্রিল ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit