তিনি আরও বলেন, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক পদ্ধতিতে পুরো বিষয়টি নতুন করে সাজানো হয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের কল্যাণে আমরা দেখতে চাই, মার্কিন ব্যবসার-বাণিজ্যের জন্য চীন দুয়ার খুলে দিচ্ছে। বড় অগ্রগতি হয়েছে।’
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানির দিকে। দুদেশের শুল্ক সংঘাতের প্রেক্ষিতে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকেই চীনা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক চাপায় ট্রাম্প প্রশামন।
এরপর চলতি মাসের শুরুর দিকে (২ এপ্রিল) বিশ্বের বহু দেশের পাশাপাশি চীনা পণ্যের ওপরও আরও ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চীন পাল্টা শুল্ক চাপালে ট্রাম্প আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন এবং মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৪ শতাংশ।
তার সঙ্গে পূর্বের ২০ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হয়ে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ১০৪ শতাংশে। এরপরও থেমে থাকেননি ট্রাম্প। তিনি দফায় দফায় চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে ১২৫ শতাংশ করা হয়। এরপর সেই শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয় ১৪৫ শতাংশ।
শুল্ক বৃদ্ধি করে পাল্টা জবাব দেয় বেইজিংও। দেশটির কর্মকর্তারা ঘোষণা করেন, ৮৪ নয়, এবার থেকে মার্কিন পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ধার্য করা হচ্ছে। পাল্টাপাল্টি শুল্কবৃদ্ধির ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়।
ট্রাম্পের শুল্কারোপের ঘোষণা পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়। শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক। তবে কয়েকদিনের উত্তাপের পর শুল্ক ইস্যুতে সুর নরম করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চীনের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি শুল্ক বৃদ্ধির লড়াই অবসানের ইঙ্গিত দেন তিনি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনেও বলা হয়, শুল্ক নিয়ে চীনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা হিসেবে দেশটির পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাসের কথা বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত ১৪৫ শতাংশ শুল্ক ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে।
সেই আবহেই এবার আশার আলো দেখাচ্ছে জেনেভার এই বৈঠক। মার্কিন অর্থমন্ত্রী (ট্রেজারি সেক্রেটারি) স্কট বেসেন্ট ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন উচ্চপদস্থ চীন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। একটা সিদ্ধান্তে না আসা পর্যন্ত এই বৈঠক চলবে বলে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র: এএফপি ও সিএনএন