লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : উৎসবের দিনে ছোট ছোট শিশুরা যখন শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে বেড়ায়, তাদের দেখে বড়দের মুখে নিজের অজান্তেই হাসি ফুটে ওঠে। সন্তানকে সাজিয়ে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া অভিভাবকদের নির্মল আনন্দ দেয়। তবে উৎসবের পোশাকে বাচ্চাকে দেখতে যত সুন্দরই দেখাক না কেন তারা যেন আরামদায়ক পোশাকে থাকে, এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আজ চৈত্র মাসের ২৯ তারিখ, একদিন বাদেই পহেলা বৈশাখ। বাংলা সংস্কৃতির এই প্রাণবন্ত উৎসবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে সকাল বেলায় অনেক অভিভাবক তাদের শিশুদের নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। তাই গরম, রোদ ও ভিড়ের কথা মাথায় রেখে শিশুদের পোশাক নির্বাচন করুন। এ দিনে শিশুদের সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখতে পোশাকের ধরন, রং এবং উপকরণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। জেনে নিন কীভাবে পহেলা বৈশাখের উৎসবে শিশুদের জন্য আরামদায়ক, আকর্ষণীয় এবং নিরাপদ পোশাক বেছে নেবেন-
শিশুদের কাপড়ের জন্য সবসময় প্রাকৃতিক উপাদান বেছে নিন। পহেলা বৈশাখের গরমে শিশুদের জন্য এমন কাপড় নির্বাচন করুন যার মধ্য দিয়ে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে। সুতি কাপড় সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণ এটি ঘাম শোষণ করে এবং ত্বক শীতল রাখে। লিনেন বা খাদি কাপড়ও হালকা ও আরামদায়ক।
তবে পলিয়েস্টার, নাইলন বা সিনথেটিক কাপড়, যা ঘাম জমিয়ে অস্বস্তি ও ঘামাচি সৃষ্টি করতে পারে, এমন কাপড় অবশ্যই এড়িয়ে চলুন।
উৎসবের পোশাক অবশ্যই বৈশাখী আবহে মানানসই হওয়া দরকার, যেন শিশু নিজেকে উৎসবের অংশ মনে করতে পারে। উজ্জ্বল লাল, সাদা, নীল, হলুদ বা সবুজ রঙের কাপড়ে বৈশাখী আমেজ আসবে। পরিবারের সবাই একই ধরনের রঙের কাপড়ও পরতে পারেন। এক কথায়, বৈশাখের রঙে সাজুন পহেলা বৈশাখে।
রঙিন হলেও পোশাকের ডিজাইন হওয়া উচিত হালকা। জটিল কাজ বা ভারী অলংকার এড়িয়ে সাধারণ কিন্তু আকর্ষণীয় ডিজাইন বেছে নিন। ফুল, পাখি বা ঐতিহ্যবাহী মোটিফ থাকতে পারে। মেয়েদের ফ্রক বা ফ্লোরাল ড্রেস, ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামা বা কুর্তা-পাজামা ভালো পছন্দ। তবে ছোট শিশুরাও কেউ কেউ খুব আগ্রহ নিয়ে শাড়ি পরতে চায়। আপনার কন্যাশিশুটিকে শাড়ি পরাতে চাইলে অবশ্যই খেয়াল করুন শাড়ির কাপড়টি আরামদায়ক কি না এবং শাড়িটি পরে আপনার শিশু সহজভাবে চলাফেরা করতে পারছে কি না।
৩. ঢিলেঢালা ও চলাফেরার উপযোগী
শিশুদের পোশাক অবশ্যই মুক্ত গতির উপযোগী হওয়া চাই। অল্প ঢিলেঢালা পোশাক এজন্য আদর্শ। টাইট জিন্স বা জড়ানো পোশাক এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে হাঁটাচলা ও খেলাধুলায় অসুবিধা হয়। জিপার বা বোতামের বদলে ইলাস্টিক বা ফিতা ব্যবহার করা ভালো, যাতে শিশুরা নিজেরাই সহজে পোশাক পরতে পারে। পায়ের জুতা বা স্যান্ডেলটিও যেন আরামদায়ক হয়, কারণ খোলা জায়গায় শিশু দৌড়াদৌড়ি করবে এটাই স্বাভাবিক। তাই আরামদায়ক জুতা বা ফিতাওয়ালা স্যান্ডেল নির্বাচন করুন।
গরম ও ভিড়ে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে কিছু বাড়তি সতর্কতা নিন। বেশি রোদে থাকার পরিকল্পনা থাকলে টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করুন যেন মাথায় রোদ সরাসরি না পরে। সেই সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে শিশুর ত্বকে সানস্ক্রিন লাগিয়ে দিন, যেন রোদে কষ্টকর সানবার্ন থেকে শিশু সুরক্ষিত থাকে।
৫. অ্যাকসেসরিজ
অতিরিক্ত সাজসজ্জা শিশুদের জন্য ঝামেলার কারণ হতে পারে। তাই নিরাপদ ও হালকা অ্যাকসেসরিজ দিতে পারেন। প্লাস্টিক বা কাঠের হালকা মালা ব্যবহার করুন, ধারালো বা ভারী গয়না এড়িয়ে চলুন। ছোট বোতাম, পুঁতি বা ঝালরযুক্ত পোশাক না পরানোই ভালো, কারণ শিশুরা এগুলো মুখে দিতে পারে। বড়দের দেখে শিশুরা অনেক সময় মেকআপ করতে চাইতে পারে। তাদের কোমল ত্বকে এসব কেমিক্যাল খুব খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে, তাছাড়া নির্দিষ্ট বয়সের আগে মেকআপ মানানসই নয়। তাই শিশুদের মেকআপের বিষয়ে নিরুৎসাহীত করুন।
সেইসঙ্গে দামি কোনো বস্তু দিয়ে শিশুকে সাজাবেন না, এটি তাদের দুষ্কৃতকারীর নজরে আনতে পারে।
কিউএনবি/আয়শা/১৩ এপ্রিল ২০২৫,/সন্ধ্যা ৭:১৯