আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজা উপত্যকা থেকে আটক ৮০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরাইল। কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে তারা আল-আকসা মার্টিয়ার্স হাসপাতালে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হলে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকালে তাদের মুক্তি দেয়। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে। আল-আকসা মার্টিয়ার্স হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরা জানান, এই মুক্তির বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ অজানা ছিলেন। এক চিকিৎসক বলেন, আমরা একেবারে অবাক হয়েছি। কারণ, সাধারণত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে কিছু তথ্য বা সমন্বয় থাকে। কিন্তু এবার কিছুই জানানো হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বন্দিদের গাজার দক্ষিণে খান ইউনিসের পূর্বে ইসরাইল-নিয়ন্ত্রিত কিসুফিম সীমান্ত দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এদিকে গাজার একজন চিকিৎসক জানান, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। তাদেরকে দেইর আল-বালাহ শহরের আল-আকসা শহিদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মুক্তিপ্রাপ্তদের একজন চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন। তিনি চলাফেরা করতে অক্ষম এবং তার শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। তবে ইসরাইল বা হামাসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ ১০ বছর কারাভোগের পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আহমাদ মানাসরাকে মুক্তি দিয়েছে। ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক সংস্থা ‘প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনার্স সোসাইটি’র মতে, মাত্র ১৩ বছর বয়সে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে আহমাদ মানাসরার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিভিন্ন রূপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার একটি সূত্র জানিয়েছে, আমরা হাসপাতালে এক আবেগঘন দৃশ্য দেখেছি— একজন পিতা তার কন্যা ফারাহকে জড়িয়ে ধরছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাদের পুনর্মিলন ঘটেছে।
ফারাহ এতদিন ভেবেছিলেন, তার বাবা মারা গেছেন; এমন একটা সময়ে বাবার সাথে তার পুনর্মিলন হয়েছে। তিনি জানতেন না তার বাবা কোথায়, কেমন আছেন, আদৌ জীবিত আছেন কিনা।
এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় গাজার বহু বন্দি বাসিন্দাকে মুক্তি দিয়েছিল ইসরাইল। দখলদার ইসরাইলের হাতে এখনও কতজন গাজাবাসী বন্দি রয়েছে, তার সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে সংখ্যাটি হাজারেরও বেশি।
জানুয়ারির ওই যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তির অস্থায়ী মেয়াদ শেষ হতেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরাইল গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় আবার হামলা শুরু করেছে। বর্বর বাহিনীর অব্যাহত হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৫শ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৩ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি গাজায় হামলা আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন। তার সেই ঘোষণা অনুযায়ী ইসরাইলি বর্বর বাহিনী গাজা, পশ্চিম তীরসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনি নারী-শিশু সবাইকে হত্যা করে যাচ্ছে।
কিউএনবি/আয়শা/১০ এপ্রিল ২০২৫,/রাত ১০:১৮