স্পোর্টস ডেস্ক : ২০০৭ সালে রবার্তো কার্লোসের উত্তরসূরি হিসেবে রিয়ালে আসেন মার্সেলো। দীর্ঘ ১৫ বছর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কাটান তিনি। রিয়ালের হয়ে ৫৪৬টি ম্যাচ খেলে ছয়বার লালিগা ও পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপাসহ ভুরি ভুরি শিরোপা জিতেছেন তিনি। মাদ্রিদের ক্লাবটির ইতিহাসে তার চেয়ে সফল খেলোয়াড় কমই আছেন।
তবে মার্সেলো এবং রিয়ালের শোকেসে আরও বেশি ট্রফি থাকতে পারতো, যদি প্রতিপক্ষ বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির মতো অতিমানবীয় কেউ না থাকত। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি নিয়মিতই রিয়ালকে বিপর্যস্ত করেছেন।
মেসি বার্সেলোনার রাইট উইংয়ে থাকায় রিয়ালে লেফটব্যাক হিসেবে খেলা মার্সেলোর সঙ্গেই তার দ্বৈরথ হতো বেশি। মেসিকে সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হতো এই ব্রাজিলিয়ানকে। এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনার এই মহাতারকার কাছে বোকা বনে যাওয়ার পর একবার তো মার্সেলোর ইচ্ছা জেগেছিল তাকে আঘাত করারও। সেই ঘটনার কথা নিজেই জানিয়েছেন এক সাক্ষাৎকারে।
রিয়ালের সাবেক এই লেফট ব্যাক সম্প্রতি লা রেভুয়েলতাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি তার অনেক প্রশংসা করি। সে একটা পাগল। সে অবিশ্বাস্য। আমার মনে হয় আপনি সেই ভিডিওটি দেখাবেন, যেখানে সে (মেসি) আমাকে বোকা বানিয়েছিল! এ যে আমাকে ছাড়িয়ে গেছে সেটাও আমি দেখতে পারিনি। সে খুবই দ্রুতগতির ছিল। কিন্তু কোনো সমস্যা ছিল না, আমি এমন একটা জায়গায় জন্ম নিয়েছি, যেখানে ড্রিবলিং সেরা কিন্তু ড্রিবলড হওয়াটা নয়।’
রোনালদোর সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব মার্সেলোর। ছবি: সংগৃহীত
মার্সেলো যোগ করেন, ‘কিন্তু মেসির সঙ্গে সমস্যাটা হচ্ছে আমি তাকে মারতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমি তার নাগালই পাইনি।’রিয়াল মাদ্রিদে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে দারুণ বন্ধুত্ব ছিল মার্সেলোর। তাই স্বাভাবিকভাবে সর্বকালের সেরার প্রশ্নে রোনালদোর দাবির প্রশ্নটিও সামনে এলো। এ ব্যাপারে মার্সেলো জানান, তিনি এবং রিয়ালে তার সতীর্থরা সৌভাগ্যবান একই সময়ের দুই সর্বকালের সেরার সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়ে।
মার্সেলো বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো (রোনালদো) মনে করেন তিনিই সেরা। একটা সময় ছিল যখন এটি নিয়ে প্রচুর উন্মাদনা ছিল, কারণ একজন দুই গোল করলে আরেকজন তিনটা করত…আমরা এটা সরাসরি দেখেছি এবং এটা আমরা খুবই উপভোগ করেছি। অনেকেই তাদের তুলনা করতে চায় কিন্তু এসব বাদ দিয়ে উপভোগ করা উচিত।’