উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি শুধু নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠী বা দেশের জন্য নয়। এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষাবিদ, গবেষক, পেশাজীবী ও সরকারের মধ্যে মেলবন্ধন সৃষ্টিতে এধরনের বক্তৃতা আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা প্রদানের জন্য তিনি বিচারপতি মি. অ্যান্টোনিও হারমান বেঞ্জামিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর বক্তৃতার মাধ্যমে দেশের পেশাজীবী ও সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত উপকৃত হবে।
বিচারপতি মি. অ্যান্টোনিও হারমান বেঞ্জামিন পরিবেশ আইনের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক নীতিমালা এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্বজুড়ে মানবজাতিকে বিভিন্ন সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। ঐক্যবদ্ধভাবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মানবিক কার্যক্রম ও নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ আইনের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলোকে আলোচনা করতে হবে। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্ম ও পৃথিবীকে রক্ষা করতে পরিবেশ সংরক্ষণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং জনগণকে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে বিচারক, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা, সরকার, শিক্ষাবিদ, গবেষক, পরিবেশকর্মী ও তরুণ প্রজন্মের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা দরকার।
রাষ্ট্রদূত মি. পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তাদের হাত ধরে দেশের যে কোন পরিবর্তন সম্ভব। পরিবেশ সংরক্ষণসহ সমাজের সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, আইনজীবী, গবেষক, পরিবেশকর্মী এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।