সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বাপাজসের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হলেন নোবিপ্রবির ইফতেখার হোসাইন মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাযা ও দাফনে বাঁধা প্রতিবাদে নওগাঁয় বিক্ষোভ সমাবেশ যোগ্যতা নয়, পরিচয়ই বড়? পাহাড়ের ক্রীড়াঙ্গনে বৈষম্যের অভিযোগ যশোরের  জিআই পণ্য  খেজুর গুড় সংগ্রহ মওসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার গেট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন আজকের মুদ্রার রেট: ২ নভেম্বর ২০২৬ মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, সামনে লিখতে হবে যেভাবে এখন যারা আন্দোলনের নামে সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদে নরসিংদীতে বিক্ষোভ মিছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী দল ঘোষণা দক্ষিণ আফ্রিকার

তাকদিরের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসে পাঁচ সুসংবাদ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৬৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : ঈমানের ছয়টি রুকনের একটি হলো তাকদিরের ভালো ও মন্দে বিশ্বাস স্থাপন করা। অর্থাৎ আল্লাহ যা কিছু আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, তা অন্তর থেকে মেনে নেওয়া এবং এতে সন্তুষ্ট থাকা। পাশাপাশি যথাযথ প্রচেষ্টা ও উপায় অবলম্বনের মাধ্যমে তাঁর ফায়সালাকে বিনা দ্বিধায় গ্রহণ করা।

তাকদিরের ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করাকে শরয়ী ভাষায় ‘রিজা’ বলে।

শায়খ ইবনু উসায়মিন (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকার অর্থ হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তাকদিরের ব্যাপারে অন্তরকে প্রশান্ত রাখা, প্রফুল্লচিত্ত থাকা এবং মানসিকভাবে ব্যথিত না হওয়া। যদিও আপতিত বিপদকে সে অপছন্দ করে’। (শরহুল আকিদা, পৃ. ৩৭০-৩৭১)

আর যারা তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে, তাদের জন্য রয়েছে অসংখ্য সুসংবাদ। নিম্নে এর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি তুলে ধরা হলো।

জান্নাতের সুসংবাদ

যারা তাকদিরের ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকে, তাদের আত্মা কবজের সময় মৃত্যুর ফেরেশতাগণ জান্নাতের সুসংবাদ দান করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে প্রশান্ত আত্মা! ফিরে চলো তোমার প্রভুর পানে, সন্তুষ্টচিত্তে ও সন্তোষভাজন অবস্থায়। অতঃপর প্রবেশ করো আমার বান্দাদের মধ্যে এবং প্রবেশ করো আমার জান্নাতে’। (সুরা : ফাজর, আয়াত : ২৭-৩০)

ইমাম মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘প্রশান্ত আত্মা হলো আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট আত্মা।

যে আত্মা জানে, যা তার ভাগ্যে লেখা হয়নি, তা সে কখনোই পাবে না। আর যা তার ভাগ্যে লেখা আছে, তা কখনোই বাদ পড়বে না।’ (তাফসিরে কুরতুবি : ২০/৫৭)

ক্ষমা ও রহমত লাভের সুসংবাদ

তাকদিরের ফায়সালা মেনে নেওয়ার বড় পুরস্কার হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও রহমত লাভের সুসংবাদ। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তুমি সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের। যাদের ওপর কোনো বিপদ এলে তারা বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই ফিরে যাব। তাদের ওপর তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে রয়েছে অফুরন্ত দয়া ও করুণা এবং তারাই হলো সুপথপ্রাপ্ত’। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৫-১৫৭)

হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি যখন আমার কোনো মুমিন বান্দাকে মুসিবতে নিক্ষেপ করি আর সে আমার প্রশংসা করে এবং আমার পক্ষ থেকে আরোপিত বিপদের কষ্টে ধৈর্য ধারণ করে, তাহলে সে তার বিছানা থেকে ওই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ওঠে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল। অতঃপর আল্লাহ হেফাজতকারী ফেরেশতাদের বলেন, আমি আমার এই বান্দাকে আবদ্ধ করে রেখেছি এবং মুসিবতে ফেলেছি, সুতরাং তোমরা তার ওই আমলগুলোর নেকি জারি রাখো, সে সুস্থ থাকা অবস্থায় যে আমলের নেকিগুলো তোমরা জারি রাখতে’। (মুজামুল আওসাত, হাদিস : ৪৭০৯)

ঈমানের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদনের সুসংবাদ

তাকদিরের ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকার সবচেয়ে বড় পুরস্কার হচ্ছে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন। আল্লাহর সিদ্ধান্তকে খুশি মনে মেনে নেওয়ার মাধ্যমে হৃদয়জুড়ে যে অপার্থিব প্রশান্তি পাওয়া যায়, তা অন্য কোনো মাধ্যমে লাভ করা সম্ভব নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পেরেছে, যে আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বিন হিসেবে এবং রাসুলকে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছে’। (মুসলিম, হাদিস : ৩৪)

ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) বলেন, ‘বান্দা যখন ঈমানের স্বাদ পেয়ে যায় এবং এর মিষ্টতা অনুভব করতে পারে, তখন তার জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এর প্রভাব প্রকাশ পায়। তার জিহ্বায় আল্লাহর স্মরণ এবং তাঁর সন্তুষ্টিমূলক কথা মিষ্টি লাগে, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর আনুগত্যের পানে দ্রুত ছুটে চলে’। (লাতায়েফুল মাআরিফ : পৃ. ২২৬)

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুসংবাদ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই বড় পরীক্ষায় বড় পুরস্কার রয়েছে। আল্লাহ তাআলা যখন কোনো জাতিকে ভালোবাসেন, তখন তাদের পরীক্ষায় ফেলেন। ফলে তাতে যে সন্তুষ্ট হবে, তার জন্য (আল্লাহর) সন্তুষ্টি রয়েছে। আর যে (আল্লাহর পরীক্ষায়) অসন্তুষ্ট হবে, তার জন্য রয়েছে আল্লাহর অসন্তুষ্টি’। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০৩১)

দোয়া কবুলের সুসংবাদ

ইবনুল জাওজি (রহ.) বলেন, ‘আমি এক বিস্ময়কর ব্যাপার দেখেছি যে কোনো মুমিনের ওপর বিপদ নেমে আসার পর সে দোয়া করে, অনেক বেশি করে আল্লাহর কাছে চাইতে থাকে। কিন্তু কবুলের কোনো লক্ষণ দেখতে না পেলে প্রায় আশা ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম হয়, তখন আল্লাহ তার অন্তরের দিকে দৃষ্টি দেন। যদি সে আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকে, তাঁর অনুগ্রহের ব্যাপারে নিরাশ না থাকে, তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আল্লাহ তৎক্ষণাৎ তার ডাকে সাড়া দেন’। (সায়দুল খাতির : পৃ. ১৩৮)

কিউএনবি/অনিমা/৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫,/বিকাল ৪:৪৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit