বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন

যে তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল হয়

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৭৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : মুমিনের দোয়া কখনো ব্যর্থ হয় না। হয়তো সাময়িক বিলম্ব হতে পারে। তবে তিন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ অবশ্যই কবুল করেন। এবং তা খুব দ্রুতই হয়।

ঈমাম বুখারি (রহ.) রচিত ‘আল আদাবুল মুফরাদে’ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, তিনটি দোয়া অবশ্যই কবুল হয়।
(১) উত্পীড়িত বা মজলুমের দোয়া। জুলুম আরবি শব্দ। অর্থ হলো অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন ইত্যাদি। তা বিভিন্ন পদ্ধতিতে হতে পারে।
শারীরিক—শরীরে প্রহার করা শারীরিক জুলুম; মানসিক—ভয়ভীতি বা অন্য কোনো উপায়ে ব্ল্যাকমেইল করা। হকদারের হক অবৈধভাবে আত্মসাৎ করা আর্থিক জুলুম। সবই অপরাধ।

এ অপরাধের শাস্তি আল্লাহ পরকালে তো দেবেনই, দুনিয়ায়ও দেবেন ভয়াবহ সাজা। কারণ মজলুম বা নিপীড়িত ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না। তার দোয়া আর আল্লাহর মাঝে কোনো অন্তরাল থাকে না। ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) যখন মুয়াজ (রা.)-কে ইয়েমেনে পাঠান এবং তাকে বলেন, মজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা, তার ফরিয়াদ ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৪৮)

এ ছাড়া একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জুলুমের ভয়াবহতার সুস্পষ্ট বর্ণনা। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, তোমরা অত্যাচার করা থেকে বিরত থাকো। কেননা অত্যাচার কিয়ামতের দিন গভীর অন্ধকাররূপে আসবে। তোমরা কৃপণতা পরিহার করো। কেননা এই কৃপণতা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে এবং তাদের পরস্পরের রক্তপাত করতে এবং তাদের প্রতি হারামসমূহকে হালালরূপে গ্রহণ করতে উদ্যত করেছে।

(আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৪৯০)

(২) মুসাফিরের দোয়া। দৈনন্দিন জীবনে নানা উদ্দেশ্যে মুসাফির সফর করে। জীবিকা, উচ্চশিক্ষা ইত্যাদি। তবে যাই হোক সফরে রয়েছে কষ্ট-ক্লেশ, অনাহার আর অনিদ্রা। এ জন্য সফর শেষে দ্রুত আবাসস্থলে ফিরে আসার নির্দেশ রয়েছে হাদিসে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) ইরশাদ করেন, সফর আজাবের অংশবিশেষ। তা তোমাদের যথাসময় পানাহার ও নিদ্রায় ব্যঘাত ঘটায়। কাজেই সবাই যেন নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অবিলম্বে আপন পরিজনের কাছে ফিরে যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮০৪)

সফরের নানা কষ্টের দিকে লক্ষ করে দ্বিনি বিধি-বিধানেও এসেছে সহজতা। চার রাকাত নামাজ দুই রাকাত, কোরবানি না করার অনুমতি ইত্যাদি। পাশাপাশি আছে মুসাফিরের দোয়া কাবুলের বিশেষ সুসংবাদও। তাই সফর অবস্থায় বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।

(৩) সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়া। মা-বাবা হলেন পৃথিবীতে আল্লাহ প্রদত্ত এক অমূল্য সম্পদ। মা-বাবা ছাড়া পৃথিবী শূন্যতায় ভরপুর। সন্তানের জন্য মা-বাবা হলো বৃষ্টিতে ছাতা আর রোদে বৃক্ষের ছায়া মতো। মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তোমার রব আদেশ করেছেন যে তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, হাদিস : ২৩)

মানুষ শেষ বয়সে শিশুসুলভ আচরণ করে। তাই অনেক সময় সন্তানরা তাদের আচরণে বিরক্তি প্রকাশ করে। আয়াতের পরবর্তী অংশে মা-বাবার এমন আচরণে বিরক্তি প্রকাশ না করে সদাচারী হওয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমার বর্তমানে তাদের একজন বা উভয়েই বার্ধক্যে পৌঁছে যায়, তবে তাদের উফ পর্যন্ত বলবে না এবং তাদের ধমক দেবে না, বরং তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলবে।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, হাদিস : ২৩)

যদি কোনো সন্তান কোরআনের এ নির্দেশ মেনে চলে তাহলে সে অবশ্যই মাতা-পিতার নেক দোয়া পাবে।

কিউএনবি/অনিমা/০৮ জানুয়ারী ২০২৫,/দুপুর ২:৫১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit