মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন

তিব্বতে একের পর এক ক্লোন ইয়াক, বিশ্বজুড়ে নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ২৬ Time View

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : তিব্বতের চার হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার মালভূমিতে ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত বৈশিষ্ট্যের ইয়াক তৈরির একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চীন। গবেষকদের দাবি, এই প্রযুক্তি ইয়াকের উর্বরতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে। তবে প্রাণী কল্যাণ ও নৈতিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কও শুরু হয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রথম সফল ক্লোন ইয়াকের জন্ম হয়। এরপর আরও ১০টি ক্লোন ইয়াক জন্ম নিয়েছে। গবেষকদের লক্ষ্য, ২০২৮ সালের মধ্যে ১০০টির বেশি এলিট ক্লোন ইয়াকের একটি পাল গড়ে তোলা।

প্রকল্পটির নেতৃত্বে থাকা ফাং শেংগুও বলেন, ক্লোনিং প্রযুক্তি এখন পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগের সক্ষমতা অর্জন করেছে।

তিব্বতের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে ইয়াকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পশম, দুধ, মাংস ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত এই প্রাণী জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং জিনগত বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার কারণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ বছরে বুনো ইয়াকের সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশের বেশি কমেছে। বর্তমানে তিব্বতে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার বুনো ইয়াক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গোল্ডেন ওয়াইল্ড ইয়াক নামে পরিচিত বিরল উপপ্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৩০০টিতে নেমে এসেছে।

গবেষকদের মতে, নির্বাচিত উৎকৃষ্ট জিনগত বৈশিষ্ট্য দ্রুত ছড়িয়ে দিতে ক্লোনিং কার্যকর হতে পারে। ভবিষ্যতে বুনো ইয়াক সংরক্ষণেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সফল বুনো ইয়াক ক্লোনের জন্মের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের প্রাণিচিকিৎসক ও বায়োএথিসিস্ট লিসা মোজেস বলেন, সংরক্ষণে ক্লোনিংয়ের সম্ভাবনা থাকলেও পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা জানতে চাইছেন, সফল ক্লোন জন্মের আগে কতটি ব্যর্থ গর্ভধারণ, গর্ভপাত বা প্রাণীর মৃত্যু ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি ক্লোন প্রাণীর জিনগত বৈচিত্র্য এবং প্রাণী কল্যাণ নিশ্চিতের ব্যবস্থাও স্পষ্ট নয়।

সমালোচকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থল ধ্বংস ও চোরাশিকারের মতো মূল সমস্যার সমাধান ছাড়া শুধু ক্লোনিং দীর্ঘমেয়াদে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কার্যকর সমাধান হবে না। অন্যদিকে গবেষকদের একাংশ মনে করেন, প্রচলিত সংরক্ষণ পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক জৈবপ্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।

সোর্স: সিএনএন

কিউএনবি/অনিমা/২৭ জুলাই ২০২৬,/দুপুর ২:২২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit