শিমুল দেব, উলিপুরে (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিয়ের কাবিননামার দেন মোহরের আড়াই লাখ টাকাকে জালিয়াতির মাধ্যমে সাড়ে বারো লাখ টাকা বানানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এক কাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) গ্রেপ্তারকৃত ধামশ্রেনী ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিষ্টার (কাজী) জাকির হোসেনকে (৫০) আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।মামলা সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর পৌরসভার নাড়িকেলবাড়ি পশ্চিম ছড়ারপাড়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে নূহনজিউল্লাহ (৩২) এর সাথে উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের কন্যার নাদিরা আনজুম নিহা (২০) ২০২৩ সালে বিবাহ হয়। মেয়ে পক্ষ ১৫ লাখ টাকা দেনমোহর দাবী করলেও উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা নির্ধারণ হয়ে বিবাহ হয়।
ওই সময় মেয়েপক্ষ কাবিননামা মেনে নিতে পারেননি। বিবাহের ২দিন পর জামাতা নূহনজিউল্লাহর বাড়িতে এসে তার শ^শুর নজরুল ইসলাম তার কন্যাকে বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যান। কয়েকদিন পর বউকে আনতে নূহনজিউল্লাহর শ^শুর বাড়িতে গেলে তার শ^শুর বাড়ির লোকজন তাকে জানিয়ে দেন তারা তাদের মেয়েকে আর ঘরসংসার করাবেন না। এরপর নজরুল ইসলাম ধামশ্রেনী ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিষ্টার জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করে দেনমোহরের ২ লাখ ৫১ হাজার টাকার স্থলে জালিয়াতি করে ১২ লাখ ৫১ হাজার টাকা করেন। নূহনজিউল্লাহ কাবিননামার জন্য কাজী জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তালবাহনা শুরু করে ঘোরাতে থাকেন।
দীর্ঘদিন পর কাবিননামা পেয়ে দেনমোহরের টাকার স্থলে জালিয়াতি বিষয়টি দেখতে পেয়ে নূহনজিউল্লাহ জেলা রেজিষ্টারের কাছে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে জেলা রেজিষ্ট্রার বিষয়টি তদন্তকর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে জালিয়াতির সত্যতা প্রকাশ পায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। প্রতারনার মাধ্যমে জালিয়াতির প্রেক্ষিতে নূহনজিউল্লাহ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) কাজী জাকির হোসেনকে ১নং আসামী করে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার কাজী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন।উলিপুর থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে বিজ্ঞ আদালতে মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামীদেরকে গ্রপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কিউএনবি/অনিমা/২৭ ডিসেম্বর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:৫৮