বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‘পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত’ জামায়াতের সঙ্গে আসলে আওয়ামী লীগ নেতাদেরও সাতখুন মাফ: রিজভী পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার, উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা চলছে : ইসি আনোয়ারুল ইরান একসঙ্গে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে কি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টিকবে? চীনে ‘সামরিক অভ্যুত্থানে’র গুঞ্জন, যা জানা যাচ্ছে প্রতিভা ভাগিয়ে নিল পিএসজি, ক্ষুব্ধ বার্সা সভাপতি মৌসুমীকে বিয়ের গুজব প্রসঙ্গে যা বললেন অভিনেতা ৫২ বছর বয়সেও হৃতিকের এত ফিট থাকার রহস্য কী? মিনেসোটায় প্রাণঘাতী গুলির পর ট্রাম্প-ওয়ালজ ফোনালাপে শান্তির ইঙ্গিত ইউক্রেন যুদ্ধের ইস্যুতে চীনের ভূমিকা নিয়ে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর নতুন বার্তা

এনআইডি তথ্যভান্ডার থেকে বিসিসির সংযোগ বিচ্ছিন্ন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৪৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার থেকে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির দায়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) দেওয়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে সরকারি ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও বাতিল করেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা টাকা দ্রুত সরকারি কোষাগারে জমা দিতে চিঠি দিয়েছে। রোববার বিকালে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এনআইডির তথ্য সংশোধনে জমা তিন লাখ ৭৮ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে জানুয়ারি থেকে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেওয়া হবে। এর আগে সকালে নির্বাচন কমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও চুক্তি বাতিলের তথ্য জানায়।

ইসির তথ্যভান্ডার থেকে সংযোগ নিয়ে কম্পিউটার কাউন্সিল ‘পরিচয় প্ল্যাটফর্ম’কে তা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। ওই সংযোগ থেকে তথ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে আসছে পরিচয় প্ল্যাটফর্ম। গতকাল ওই সংযোগ বন্ধ করায় পরিচয় প্ল্যাটফর্ম থেকে আর কোনো প্রতিষ্ঠান তথ্য পাবে না। এ বিষয়ে এএসএম হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, আমাদের ডাটা সেন্টার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে থাকি। আমাদের কিছু নিয়ম-কানুন আছে। আমরা ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানকে চুক্তির ভিত্তিতে সেবা দিয়ে থাকি। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) সঙ্গেও আমাদের একটা চুক্তি ছিল।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এনআইডি সার্ভারের তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, সত্তা বা পক্ষকে হস্তান্তর করতে পারবে না। অথবা বিনিময়, বিক্রয় কিংবা অন্য কোনো পন্থায় দিতে পারবে না। এই শর্ত ছিল। কিন্তু বিসিসি সেটা লঙ্ঘন করেছে। এজন্য ইসি থেকে প্রথমে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন তারা কোনো জবাব দেননি, নীরব ছিলেন। পরে ৬ অক্টোবর ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হলে বিসিসি একটা জবাব দেয়। তবে সুনির্দিষ্টভাবে যা জানতে চাওয়া হয়েছিল, তার উত্তর না দেওয়ায় ওই জবাব গ্রহণ করেনি ইসি। তারই ধারাবাহিকতায় চুক্তিটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের যে এপিআই (এনআইডি যাচাইয়ের লিংক) সংযোগটি ছিল সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নাগরিকদের গোপনীয়তার শর্ত লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিষয়ে ৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ প্রকাশ করে যুগান্তর। ‘ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্যভান্ডার : রাষ্ট্রীয় সহায়তায় নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভান্ডার থেকে অন্তত ৫ কোটি নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য বিক্রি হয়েছে। তা নিয়েছে সরকারি-বেসরকারি দেশি-বিদেশি শতাধিক প্রতিষ্ঠান। তালিকায় আছে এনজিও-ও। এসব তথ্য বিক্রি করে আসছে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতি একজন ব্যক্তির তথ্যের জন্য ৫, ১০ ও ১৫ টাকা হারে আদায় করছে। বেসরকারি ওই প্রতিষ্ঠানের নাম ‘পরিচয়’। ‘সরকারি ই-সেবা’ দেওয়ার নামে নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডারের ডেডিকেটেড সংযোগ এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) নেয় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)।

আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে ওই সংযোগ ব্যবহার করেই জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বিক্রি করে আসছে পরিচয় প্ল্যাটফরম।’ এতে আরও বলা হয়, ‘নির্বাচন কমিশনও নাগরিকদের তথ্য-উপাত্তের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা করেনি। বিসিসিকে তথ্যভান্ডারের মিরর কপি দিয়েছে। ফলে নাগরিকদের সব তথ্যই সরকারের হাতে চলে যায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল এবং কেএম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন দুই কমিশনের সময়ে এসব তথ্য অন্যদের হাতে যায়। এসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিদায়ি আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন, সাবেক দুই নির্বাচন কমিশন, আইসিটি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।’

নাগরিকদের তথ্য বিক্রি সম্পর্কে গতকালের সংবাদে বলা হয়, ‘বিসিসিকে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের এপিআই ব্যবহার করে শুরু থেকে এ পর্যন্ত কতজন নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই ও বিক্রি করা হয়েছে, এর সঠিক পরিসংখ্যান ইসির কাছে নেই। এক হিসাবে দেখা যায়, ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৬৮টি তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেছে ইসি। এর আগে ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৩ বছর আড়াই মাসে তথ্যভান্ডার থেকে কতসংখ্যক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা হয়, এর হিসাব ইসির কাছে নেই।’

এএসএম হুমায়ুন কবীর গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, বিসিসি পরিচয় প্ল্যাটফর্মের সূত্র ধরে নিজেদের মতো করে একটি সেবা চালু করে, যেখানে ইসির কোনো সমর্থন ছিল না। পরিচয় প্ল্যাটফর্ম থেকে অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেশি দামে কেন তথ্য নিয়েছে তা বোধগম্য নয়। যেসব প্রতিষ্ঠান সেখান (পরিচয়) থেকে তথ্য নিয়েছে, তাদের অনেকের সঙ্গে ইসির চুক্তি রয়েছে। আমাদের সঙ্গে চুক্তি করলে স্বল্প পয়সায় সেবা পাওয়া যায়। তারপরও তারা ওখানে (পরিচয়ের সঙ্গে) কেন চুক্তি করেছে সেটাও কিন্তু একটা বিশাল বিষয়।

এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বলেন, ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর চুক্তি সইয়ের পর কতসংখ্যক নাগরিকের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে তার পরিসংখ্যান আমাদের কাছে আছে। চুক্তির আগে সংযোগ দেওয়া হয়েছে কীনা-তা আমার জানা নেই। তারা কোনো তথ্যভান্ডার গড়ে তুলেছে কীনা-সেই বিষয়েও আমার কাছে তথ্য নেই। এ সময় তার পাশে থাকা জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকার সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তির আগে বিসিসিকে একটি টেস্ট এপিআই দেওয়া হয়েছিল।

বিসিসি তৃতীয় পক্ষকে তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ইসির কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবীর বলেন, চুক্তি বাতিল হয়েছে। যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের তো বাঁচার আসলে কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন থেকে নিশ্চয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিসিসি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। ইসিও সরকারি প্রতিষ্ঠান। তারপরও যেহেতু চুক্তি বাতিল ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, তার মানে ইনটেনশনটা বুঝতে পারছেন। কেউ বিকল্প তথ্যভান্ডার করে থাকলে নির্বাচন কমিশন নিশ্চয় যে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সেটাই নেবে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্নীতি রোধ করতে আমরা চেষ্টা করছি। ৩ মাস পরে আশা করি ভোগান্তি থাকবে না। এনআইডি সংশোধনে তিন লাখ ৭৮ হাজার আবেদন জমা আছে, সেগুলো নিষ্পত্তি করতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম জানুয়ারি থেকে শুরু হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিসিসিকে দেওয়া সংযোগ বাতিল করায় অন্য কেউ সমস্যা পড়েছে এমন তথ্য অফিশিয়ালি আমাদের জানায়নি। পরিচয় প্ল্যাটফর্ম বা বিসিসি তথ্যভান্ডার গড়ে তুলেছে এমন কোনো তথ্যও ইসির কাছে নেই।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৩ ডিসেম্বর ২০২৪,/দুপুর ১:১৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

January 2025
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit